Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
Home / অন্যান্য / স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা / অটিস্টিক শিশুর চাই একটু বাড়তি যত্ন

অটিস্টিক শিশুর চাই একটু বাড়তি যত্ন

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক:

যখন আপনার কোল আলো করে কি সুন্দর এক রাজপুত্র জন্ম নিল, তখন সবাই কি খুশি! কার মত দেখতে নাক, কার মত চোখ এই নিয়েই কথার ছড়াছড়ি। ডাক্তার যখন বলবে, বেবি-কে একটু স্পেশাল অবজারভেশন-এ রাখতে হবে। বেশ কিছু সমস্যা আছে বলে এইটুকু বাচ্চাকে নিয়ে চলল অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। রিপোর্ট এলে শোনা গেল এই রাজপুত্রের মতন বাবুটি ‘অটিজম’-এ আক্রান্ত। নিমিষেই যেন সবার মনে কালো মেঘের মত কষ্টগুলো ঘনীভূত হয়ে যাবে। মায়ের কান্না আহাজারি ভাষায় প্রকাশ করার মত না। সে তো অন্য সবার মতই একটি সুস্থ বাচ্চা চেয়েছিল। খুব ভেঙে পড়বেন এটাই স্বাভাবিক। তবুও এই মা আশায় বুক বাঁধে। পথ চলতে হবে। বড় করতে হবে তার এই অটিস্টিক সন্তানকেই।

আপনি জানেন এই অটিজম চাইল্ড মানে কী? এই অটিজম সম্পর্কে আমরা কতটুকুই বা জানি? কিভাবে গড়তে পারি সচেতনতা?

অটিজম মূলত মস্তিষ্কের বিন্যাস জনিত একটি সমস্যা। সাধারণত প্রাথমিক বিকাশকালেই বাচ্চার অটিজম-এর লক্ষণ সমূহ প্রকাশ পায়। যেহেতু, অটিজম একটি মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা, ফলে অটিজম-এ আক্রান্ত বাচ্চারা অন্যদের সাথে স্বাভাবিক যোগাযোগ করতে পারে না। আবার অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের অন্য একটি সমস্যা হল তাদের ইন্দ্রীয় সচল হলেও অনেক সময়ই তারা সাথে সাথে সাড়া দিতে পারে না। যেমন- কেউ ডাকলে শুনেও কোনো জবাব না দেয়া। এছাড়াও দেখা যায় এই ধরনের শিশুরা নিজেদের মতো থাকতে পছন্দ করে। সাধারণত এই শিশুরা বেশ জেদী প্রকৃতির হয়ে থাকে। কিন্তু সুষ্ঠু প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হলে তাদের এই আচরণগত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। অটিজম-এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই, যাতে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

তবে, অটিস্টিকদের উন্নয়নে রয়েছে বিভিন্ন থেরাপি। যা তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে অনেকটাই সাহায্য করে। তাদের সাথে স্বাভাবিক শিশুর মতো আচরণ করলে এই বিশেষ শিশুরাও স্বাভাবিক আচরণ করতে পারে। জার্মানের একটি বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক ও অটিস্টিক বাচ্চাদের একসাথে পড়ানো হয়। সেখানে দেখা যায় যে, অটিস্টিক বাচ্চারা স্বাভাবিক বাচ্চাদের সাথে মিশে অনেক কিছু শিখছে আবার স্বাভাবিক বাচ্চারাও অটিস্টিক বাচ্চাদের সাথে মিশে অনেক কিছু শিখছে।

প্রত্যেক বছর ২ এপ্রিলে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে এই দিনটিকে অটিজম আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের স্বাভাবিক জীবন প্রদানের লক্ষ্যে এই দিবস ঘোষণা করেন। সেই থেকে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। বর্তমানে আমাদের দেশে বেশ কিছু অটিজম স্কুল থাকলেও সেগুলো সমাজ থেকে তেমন সহযোগিতা পায় না।

মনে রাখবেন অটিজম-এ আক্রান্ত শিশু মানেই মানসিক প্রতিবন্ধী নয়, নয় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীও। আপনার আমার বুদ্ধাঙ্ক যেমন কম বেশি হয়ে থাকে, অটিস্টিক বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও তেমনই হয়। বরং অটিস্টিক বাচ্চাদের কেউ কেউ ছবি আঁকা বা গণিতে স্বাভাবিক বাচ্চাদের তুলনায় অনেক ভালো হয়ে থাকে। অথচ আমাদের দেশে অটিস্টিক বাচ্চাদের ঘরের বাহিরে আনা হয় না। কেউ কেউ বা সন্তান হিসেবে পরিচয় ও দিতে চায় না। বোঝা ভেবে ফেলে রাখে অযত্নে অনাদরে।

প্রতিটি শিশুই বিধাতার এক মূল্যবান উপহার। সে স্বাভাবিক হোক আর অটিস্টিক। এই শিশুদের আলাদা করে না দেখে আপন করে নিন। অটিস্টিক শিশুদের চাই শুধু একটু বাড়তি যত্ন, একটু বাড়তি ভালোবাসা আর একটু বাড়তি উৎসাহ!

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জেনে নিন গাজরের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা: ভিটামিন এ সমৃদ্ধ পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি শক্তিশালী সবজি হচ্ছে গাজর। গাজরে প্রচুর ...