বৃহস্পতিবার , নভেম্বর 15 2018
সর্বশেষ সংবাদঃ-
হোম / অন্যান্য / স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা / আবহাওয়ার কানামাছির সাথে অসুস্থতার লুকোচুরি খেলা

আবহাওয়ার কানামাছির সাথে অসুস্থতার লুকোচুরি খেলা

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক |

সকালে জলমলে রোদ দেখে ছাতা বাসায় রেখে অফিসে যাচ্ছেন বা ঘুরতে বের হলেন। কিছুদুর যাওয়ার পর আকাশ ঘন কালো হয়ে ঝুপ বৃষ্টি শুরু হল। এমনটাই হচ্ছে এখন আবহাওয়াতে। সুর্য আর মেঘের মধ্যে একটা লুকোচুরি খেলা চলছে। এই রোদ আবার ক্ষণিকেই বৃষ্টি। যেন আবহাওয়া প্রকৃতির সাথে কানামাছি খেলছে।

আর এই আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে ঠান্ডা, সর্দি, কাশি এমনকি জ্বরও লেগে থাকে। আমরা মনে করি আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনের ফলে ঠান্ডা, সর্দি, কাশি হয়। কিন্তু এই সকল শারীরিক সমস্যার পেছনে ভাইরাসের হাত থাকে সবথেকে বেশী। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথেও এর কিছুটা যোগসূত্র আছে। প্রথমে জেনে নিই আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে অসুস্থতার সম্পর্ক কি।

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো হেলথ ডিপার্টমেন্ট এর চিকিৎসক ডা. বেঞ্জামিন ক্যাপলান বলেন – আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবেশে তাপমাত্রার তারতম্য আসে। আর এই তারতম্য নানা ধরণের রোগ জীবাণুর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলে। তাই দেখা যায় সর্দি, কাশির মত অন্যান্য ভাইরাসজনিত নানা রোগে মানুষ খুব সহজেই  আক্রান্ত হয়।

যেমন ধরুন, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপ ও আর্দ্রতা পরিবর্তনের ফলে শরীরে প্রচুর ঘাম হয়। এই অতিরিক্ত ঘামের ফলে নানা জীবাণুর সংক্রমণ বেশি হয়, যা বিভিন্ন অসুস্থতা ও জ্বরের খুব স্বাভাবিক কারণ। আবার শীতকালে শুষ্কতার জন্য অ্যালার্জির প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়।  শুষ্কতায় ত্বক ফাটা, অ্যাকজিমা, সোরিয়াসিস ছাড়াও ঠাণ্ডা, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাও বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমাদের শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব এনজাইম আছে, তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাপমাত্রায় কম কার্যকর হয়ে পড়ে। যার কারণে দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। এতে ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা করে, গলায় খুসখুস ভাব দেখা দেয়, নাক বন্ধ হয়ে যায়, নাক দিয়ে ক্রমাগত পানি ঝরতে থাকে এবং হাঁচি আসে।

তবে আবহাওয়ার এমন কানামাছি খেলার মাঝেও নিজেকে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া সুস্থ রাখা যায়। টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন ধরণের সমস্যা থেকে মুক্তি দিবে এমন কয়েকটি উপায় উল্লেখ করেছে। তাছাড়া কিছু সহজলভ্য খাবার এমন আবহাওয়ায় আপনাকে সুস্থ রাখতে খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

কীভাবে নিজেকে সুস্থ রাখা যাবে?

আপনার হাতে থাকা মুঠোফোন আপনার অসুস্থতার একটি বড় কারণ। কখনো চিন্তা করে দেখেছেন কি, আপনার ফোন কোথায় কোথায় রাখেন? ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এক গবেষণা করে দেখেন, টয়লেট সিটের চেয়ে ১০ গুণ বেশি জীবাণু থাকে মোবাইল ফোনে। যেগুলো আপনার ত্বক ও শরীরে অসুখ সৃষ্টি করে। তাই সবসময় মোবাইল পরিষ্কার রাখুন।

‘হাত’ মানুষের সবথেকে ব্যবহৃত একটি অঙ্গ। মুখে একটু ঘাম জমলে বা ময়লা হলে আমরা হাত দিয়ে মুখ মুছে ফেলি। এক গবেষণায় প্রকাশ পায়, একজন ব্যক্তি প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১৬ বার মুখে হাত দেন। এতে হাত থেকে মুখে সহজেই ভাইরাস যেতে পারে। সেখান থেকে ভাইরাস শরীরে খুব আরামসে ঢুকে যায়। তাই ভালো করে হাত ধোয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিন আমাদের শরীরের জন্য ১৫ মিলিগ্রাম জিংকের প্রয়োজন হয়। গরু ও ভেড়ার মাংসে উচ্চমাত্রায় জিংক রয়েছে। এছাড়া সামুদ্রিক মাছ, গরু-খাসির কলিজা, আটা-ময়দার রুটিতে জিংক থাকে। শরীরে জিংকের ঘাটতি হলে ভাইরাসের বৃদ্ধি দ্রুত হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ মো. শরিফুল ইসলামের ভাষ্য, আমাদের শরীরে তিন শর বেশি এনজাইমের সঠিক পরিচালনের জন্য জিংক বা দস্তার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। তাই শরীরে জিংকের ঘাটতি হতে দেবেন না।

আপনি কি জানেন বেশীরভাগ রাগবী খেলোয়াড়ের সর্দি–কাশি ও পেটের সমস্যা হয় না। কারণ তারা প্রচুর দই খেয়ে থাকেন। কারোন দইয়ে প্রচুর পরিমাণে প্রোবায়োটিক আছে। আর গবেষণায় প্রমাণিত যে, প্রোবায়োটিকস গ্রহণকারীদের সর্দি-কাশির ভাইরাস খুব বেশি আক্রমণ করতে পারেনা।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দরকারি কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রয়োজন। ২০১৪ সালে ‘জার্নাল অব সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন ইন স্পোর্টস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়, যেসব রাগবি খেলোয়াড় সম্পূরক খাবার হিসেবে  গ্রহণ করেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় কম  ভোগেন। এ ক্ষেত্রে দই দারুণ কার্যকর।

আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন। কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলেই ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকা যায়। এছাড়া জ্বর হলে বেশী করে পানি পান করা উচিত। এতে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে।

দেহের রোগ-প্রতিরোধ করে রক্তে উপস্থিত শ্বেত কণিকা। আর শ্বেত কণিকার কার্যক্রম বাড়াতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে রসুন খাওয়া উচিত। আর সর্দি বা গলা ব্যাথা হলে আদা কুঁচি দিয়ে এক কাপ রঙ চা খুবই আরাম দেয়। এছাড়া ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, তাই লেবু, বাতাব্যী লেবুর মত ফল বেশী বেশী করে খাবেন।

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

জনপ্রিয় পোষ্ট আপনার ভাল লাগতে পারে দেখুন “সবুজ বিডি ২৪“ এর সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

লাইফ কেয়ার ডায়গোনস্টিকের নামে মানুষ মারার কারখানা

আকিব, ভোলা প্রতিনিধি: ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলা সদর বাজারের উত্তর মাথায় লাইফ কেয়ার ডায়গোনস্টিকের নামে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।