Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
Home / অর্থ-বানিজ্য / আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেও ‘ধরাছোঁয়ার’ বাইরে মান্নান

আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেও ‘ধরাছোঁয়ার’ বাইরে মান্নান

মাহাবুব, ঢাকা:

হঠাৎই আলোচনায় এসেছেন জাতীয় ঐক্য থেকে ছিটকে পড়া বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান। একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধীর অভিযোগ থাকা এই মান্নান একাই ধ্বংস করেছেন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স করপোরেশন লিমিটেড (বিআইএফসি) থেকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে ফেরত দেননি তিনি। এই প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের প্রায় ৮০ শতাংশই নিয়েছে আবদুল মান্নানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এতে পুরো প্রতিষ্ঠানটিই কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, অন্য কেউ তাদের সঙ্গে লেনদেনও করছে না।

গ্রাহকেরা এখন টাকার জন্য বিআইএফসিতে ভিড় করছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চিঠি দিচ্ছে। কিন্তু কোনো কাজই হচ্ছে না। এর ফলে দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান শীর্ষ খেলাপির তালিকায় নাম লিখিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন, বিআইএফসির বার্ষিক প্রতিবেদন, স্বতন্ত্র নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের পর থেকে সানম্যান গ্রুপকে দেওয়া ঋণের কোনো অর্থই আদায় হয়নি। সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কাজ হয়নি। বার্ষিক প্রতিবেদনে সানম্যান গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ৫৪ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এসব ঋণের সঙ্গে সাবেক পরিচালক আবদুল মান্নান জড়িত। আর এ ঋণ বিতরণের সময় বিআইএফসির চেয়ারম্যান ছিলেন তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুম মান্নান।

নানা ধরনের অনিয়ম করে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে খেলাপি হলেও সরকারের কোনো সংস্থাই আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক দুদককে ব্যবস্থা নিতে বললেও তা তেমন আর এগোয়নি।

জানা গেছে, সরকারি নানা মহলে যোগাযোগ রক্ষা করে তিনি সবকিছুর ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। তবে মাঝেমধ্যে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ শুরু হলে কিছু পরেই আবার তা বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুদকে তলব করা হলেও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জানিয়ে সময়ের আবেদন করে রেখেছেন তিনি। গত বছরের শেষ দিকে মান্নানের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল সিআইডি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে শক্তিধর হলে বড় অপরাধ করেও ছাড় পাওয়া যায়। এটা বর্তমান সময়ের সুশাসনের প্রচণ্ড অভাবকেই নির্দেশ করে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো তাদের কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে। আবদুল মান্নানের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বুড়িমারী স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক: নির্বাচনকালীন ও ব্যাংক ক্লোজিংয়ের কারণে টানা চারদিনের ছুটি শেষে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ...