শনিবার , ডিসেম্বর 15 2018
হোম / অন্যান্য / কৃষি / এককালের খরস্রোতা নবগঙ্গা এখন শুকিয়ে খাল-ফারাক্কা বাঁধের বিরুপ প্রভাব

এককালের খরস্রোতা নবগঙ্গা এখন শুকিয়ে খাল-ফারাক্কা বাঁধের বিরুপ প্রভাব

নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের এক সময়ের স্রোতস্বিনী নবগঙ্গা নদী এখন ধানক্ষেত। নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে জেগে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় চর। চলছে নামে-বেনামে চর দখল, ধান চাষ ও তৈরি হচ্ছে বসতবাড়ি। পলিতে নদী ভরাটে ভূমিহীন সেজে তা দখল দিচ্ছে। সেই সাথে বাড়ছে মামলা-মোকদ্দমা। নাব্য সংকটের বন্ধ হয়ে গেছে নৌ যোগাযোগ।

একসময় বর্ষা এলে নবগঙ্গা নদীতে নৌকা বাইচ উপভোগ করতেন হাজারো মানুষ। নদীটি জেলার অন্যতম প্রধান নদী ও তখন ছিলো যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ। তাই এর তীরে গড়ে উঠেছিলো জেলার সবচে বড় বাণিজ্যিক বাজার নড়াইলের লোহাগড়া, লক্ষ্মীপাশা ও মহাজন বাজারও গড়ে উঠে। তখন কলকাতা থেকে স্টিমার নিয়ে বনিকেরা খুলনা হয়ে নড়াইলে আসতেন বাণিজ্য করতে। সেসব এখন কেবলই স্মৃতি। আশির দশকে অসংখ্য লঞ্চ এবং পাল তোলা নৌকায় গুন টেনে পণ্য আনতেন করতেন ব্যবসায়ীরা। নাব্য সংকট ও কালের আবর্তে নবগঙ্গা নদী তার রূপ-যৌবন সবই হারিয়েছে। নেই সেই আগ্রাসী রূপ। এর জন্য যতটা প্রাকৃতি দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী মানুষের খামখেয়ালীপনা। নবগঙ্গার কুন্দশী থেকে মহাজন পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিমি. পায়ে চলা সরু পথে পরিণত হয়েছে। এমনকি নদীতে বাঁধ দিয়ে মৎস্য শিকারীরা মাছ শিকার করছে প্রতিনিয়ত। সম্প্রতি শীতে নবগঙ্গা নদীর নাব্যতা অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় লোহাগড়া-নড়াইল হয়ে খুলনায় নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পণ্য পরিবহনে চরম সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমেছে ধস। নাব্যতা ফিরাতে ২০১১-১২ অর্থ বছরে ২৫ কোটি টাকায় মল্লিকপুর থেকে মহাজন পর্যন্ত খনন করা হলে তা কোন কাজেই আসে নি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে পলি পড়ে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে।

পৌর মেয়র আশরাফুল আলম মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম রেজা খান জানান, ‘নদী শাসন আইন নবগঙ্গার জন্য কার্যকর হয় না। প্রকাশ্যে চলছে নবগঙ্গা নদী দখলের প্রতিযোগিতা’।

কুন্দশী গ্রামের মৎস্যজীবী গণেশ ও সঞ্জয় বিশ্বাস, লক্ষীপাশা গ্রামের জিতেন, সনজিৎ ও নেপাল বিশ্বাস জানান, এই নদীই আমাদের রুটি-রুজির উৎস। জেলেরা মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্ত নদীতে পানি না থাকায় এখন আর জেলেরা নদীতে আসেনা। অনেকে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে।

ফারাক্কার বিরুপ প্রভাবে এক কালের খরস্রোতা নবগঙ্গা শুকিয়ে এখন খাল। আর জেগে উঠা চরগুলো ধান চাষের অন্যতম আধারে পরিণত হয়ে পড়েছে। আমাদের কিছু কাজ শুরু হলে সরকার তৎপরতা বাড়ায়। আমাদের তৎপরতা থেমে গেলে সরকারী উদ্যোগও বন্ধ হয়ে যায়।

নবগঙ্গা নদী দখল আর দূষণমুক্ত এবং ড্রেজিং করে এই নদীর প্রবাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি করেন তারা।

নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বেগম জানান, নদী কমিশনের নীতি ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। সম্প্রতি নড়াইলের চিত্রা নদী অপদখলমুক্ত করতে অভিযান করেছি। জেলার সকল নদীরক্ষায় অপদখলমুক্ত করা হবে।

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

জনপ্রিয় পোষ্ট আপনার ভাল লাগতে পারে দেখুন “সবুজ বিডি ২৪“ এর সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

ফুলবাড়ীতে গ্রীষ্মকালীন কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরন

দিনাজপুর,(ফুলবাড়ী) থেকে আফজাল হোসেনঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদে গ্রীষ্মকালীন মুগডাল চাষে কৃষকদের মাঝে বিনামূলে বীজও …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।