Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
Home / জাতীয় / একাদশ জাতীয় সংসদে প্রথম বক্তব্যে যা বললেন রাষ্ট্রপতি

একাদশ জাতীয় সংসদে প্রথম বক্তব্যে যা বললেন রাষ্ট্রপতি

মাহাবুব, ঢাকা:

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন ও অব্যাহত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সব রাজনৈতিক দল, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে সবার ঐকমত্য গড়ে তোলার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

জাতীয় সংসদের প্রথম এবং নতুন বছরের শুরুর অধিবেশনে বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়ার রেওয়াজ। অধিবেশনজুড়ে তার ভাষণের ওপর সংসদ সদস্যদের আলোচনা শেষে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হয়। এটিই রীতি। সেই ধারাবাহিকতায় একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ।

স্পিকারের অনুরোধের পর রাষ্ট্রপতি তার লিখিত ভাষণের সংক্ষিপ্তসার পড়ার শুরুতেই চতুর্থ বারের মতো সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি ভোটাধিকার প্রয়োগ করায় সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানান।

২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে মধ্য-আয়ের দেশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করার আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সংসদকে কার্যকর করতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগও আশা করেন রাষ্ট্রপতি।

ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় জীবনে নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হয়েছে।’

উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আশা করি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ আরও সুসংহত ও গতিশীল হবে। শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে পথে আমরা হেঁটেছি, সে পথেই বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টি ২০২১ সাল ছাড়িয়ে আরও সামনের দিকে ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় বাংলাদেশ একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে, এটাই জাতির প্রত্যাশা।’

আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী মানবাধিকার, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন এবং সমাজের সকল স্তরে প্রত্যক্ষ জন-সম্পৃক্তির মধ্য দিয়ে আমরা নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনসহ একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হব।’

সাবেক স্পিকার আবদুল হামিদ সংসদকে কার্যকর করতে সম্মিলিত উদ্যোগের আশা প্রকাশ করেন আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার সফল বাস্তবায়নে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।’

‘আমি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিষ্ঠান এই মহান জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।’

৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এবং সার্চ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গঠিত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশে-বিদেশে সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের বিপুল সমর্থনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে চতুর্থবারের মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। জনগণের এ রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জননন্দিত নির্বাচনী ইশতেহার সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কুখ্যাত ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা এবং যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় কার্যকর করা হয়েছে।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক সব সূচকে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের উপরে রয়েছে। চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক আট-ছয় শতাংশ। বাংলাদেশ আজ জিডিপি ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্ব-অর্থনীতিতে ৩৩তম এবং জিডিপির আকারের ভিত্তিতে ৪১তম।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমানে মাথাপিছু জাতীয় আয় এক হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপরে। অপরদিকে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।’

আবদুল হামিদ উল্লেখ করেন, ‘জাতীয় বাজেটের আকার এবং রাজস্ব আহরণের পরিমাণ অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে নিজস্ব অর্থে আমরা পদ্মা সেতু এবং ফ্লাইওভার নির্মাণসহ অনেক বৃহৎ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিগত ১০ বছরে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে দেশের অভ্যন্তরে মোট এক কোটি ৩৪ লাখের অধিক এবং বিদেশে প্রায় ৮০ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। বিগত পাঁচ বছরে ৩৪ লাখ ৮২ হাজার কর্মী বিদেশে গমন করায় প্রায় ৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স অর্জিত হয়েছে।’

রাষ্ট্রপ্রধান উল্লেখ করেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চিতকল্পে সরকার এক লাখ ১৫ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’ তিনি বলেন, ‘মাদক, জঙ্গিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।’

আবদুল হামিদ আরও বলেন, ‘সাইবার অপরাধ দমনের জন্য মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।’

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কঠোর পর্যবেক্ষণে এমপিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন টানা তৃতীয়বারের সরকারের মন্ত্রীদের পর এবার এমপিদের ওপর নজরদারি শুরু ...