শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

কাজী মাহবুবউল্লাহ পুরস্কারে ভূষিত হলেন সাত গুণী

সাহিত্য ডেস্ক:

কাজী মাহবুবউল্লাহ পুরস্কারে ভূষিত হলেন সাত গুণিজন। দেশের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সাংবাদিকতা এবং খেলাধূলা’য় বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য ‘বেগম জেবুন্নেছা ও কাজী মাহবুবউল্লাহ জনকল্যাণ ট্রাস্ট’ এই পুরস্কার প্রদান করে। এবছর একইসাথে ২০১৭ এবং ২০১৮ সালের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এর মধ্যে ‘কাজী মাহবুবউল্লাহ পুরস্কার ২০১৭’ পেয়েছেন-সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রয়াত সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার, সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। অন্যদিকে, ‘কাজী মাহবুবউল্লাহ পুরস্কার ২০১৮’ পেয়েছেন-সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ অবদানের জন্য International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh (ICDDRB)‘র পরিচালক ফেরদৌসী কাদরী, খেলাধূলায় বিশেষ অবদানের জন্য দাবাড়ু রাণী হামিদ এবং শিল্প-সাহিত্য -সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম।

শনিবার (৯ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত এক আয়োজনে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অনুষ্টানের শুরুতে ট্রাস্টের কর্মপরিধি তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জোবায়দা মাহবুব লতিফ। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য  ও বেগম জেবুন্নেছা ও কাজী মাহবুবউল্লাহ জনকল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য অধ্যাপক ড. ইকবাল মাহমুদ। ২০১৭ সালে পুরস্কার প্রাপ্তদের পক্ষ থেকে কথা বলেন ফাহিম হোসেন চৌধুরী এবং ২০১৮ সালে পুরস্কার প্রাপ্তদের পক্ষ থেকে কথা বলেন সৈয়দ হাসান ইমাম।

ফাহিম হোসেন চৌধুরী বলেন, ভালো কিছুর করার জন্য শুধু টাকাই যথেষ্ট নয়, আগে প্রয়োজন ইচ্ছেশক্তি। উপজেলা পর্যায়ে যারা বড় ব্যক্তি আছেন, তারা যদি একটু এগিয়ে এসে বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান তবে অনেক শিক্ষার্থীই আরো ভালো করতে পারবে। আমাদের একটি পদক্ষেপেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, আমাদের জাতির পিতা ও সুভাষ বসু বলেছিলেন- আমাদের সোনার মানুষ দাও, আমরা সোনার দেশ দেবো। সেই সোনার মানুষ গড়া যায় শিক্ষার মাধ্যমে। আর শিক্ষা ক্ষেত্রে এই ট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। একই সাথে আমার থেকে যোগ্যতর ব্যক্তি আরো আছেন। তাদের না দিয়ে আমাকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এই পুরস্কার গ্রহণ করছি, তবে তাদেরও স্মরণ করছি।

ড. ইকবাল মাহমুদ বলেন, এই ট্রাস্টের শিক্ষা বৃত্তির ফলে অনেক গরিব শিক্ষার্থী বড় হয়েছেন। একজন তো এখন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। এটা আমাদের গর্বের। এর পরিধি আরো বিস্তার লাভ করেছে, আরো করবে এবং চলমান থাকবে বলেই আশা করছি।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, এ পৃথিবীতে বঞ্চিত, অবহেলিত, দুঃস্থ মানুষের কল্যাণে কিছু করার তাগিদ অনুভব করা মানুষের সংখ্যা অনেক কম। কাজী মাহবুবউল্লাহ ফরিদপুরে জন্ম নেয়া তেমনই একজন বিরল মানুষ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনদরদী। আমার রাজনীতিতে আসাসহ বর্তমান অবস্থানে আসার পেছনে তাঁরই সুযোগ্য পুত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর অবদান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ট্রাস্ট সবদিক থেকে ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। আশা রাখছি এটি আরো বড় হবে। একই সাথে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে কোন সহযোগীতা করতে পারলে ভালো লাগবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, শিক্ষা ও চিকিৎসা শাস্ত্রে এই ট্রাস্টের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশিষ্টজনদের সম্মানিত করলে ট্রাস্টও সম্মানিত হয়। সেদিক থেকে এই ট্রাস্ট একটি সম্মানজনক স্থানে পৌঁছেছে। আমরা আশা করবো এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে উঠতি প্রতিভাগুলো উৎসাহ লাভ করবে।

পুনস্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে একটি সনদ, ক্রেস্ট ও এক লক্ষ টাকা অর্থমূল্য প্রদান করা হয়। আয়োজনে প্রয়াত গোলাম সারওয়ারের পক্ষে তার জামাতা মিয়া নাঈম হাবিব এবং অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর পক্ষে তার স্ত্রী সেলিনা নওরোজ পুরস্কার গ্রহণ করেন।

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

সংবাদটি শেয়ার করুন:

© All rights reserved © 2018-2019  Sabuzbd24.Com
Design & Developed BY Sabuzbd24.Com