বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধার গিদারীতে রবিদাস সম্প্রদায়ের উপর বর্বরোচিত হামলা-বাড়িঘর ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, আহত -১০ || জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের নিন্দা জ্ঞাপন

আল কাদরী কিবরীয়া সবুজ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি ।।
শাওতাল সম্প্রদায়ের উপর গুলিবর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসী হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই গাইবান্ধায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির অন্তর্গত রবিদাস (মুচি) সম্প্রদায়ভূক্ত দরিদ্র মানুষের উপর হামলা, মারপিট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধা সদরের গিদারী ইউনিয়নের দক্ষিন গিদারী গ্রামের কাউন্সিলের বাজার এলাকায়।
সরকারদলীয় সমর্থনপুষ্ট একদল ভূমি সন্ত্রাসীর আক্রমণ ও হামলার শিকার হয়েছে রবিদাস সম্প্রদায়ের নিরীহ ১০ জন মানুষ। এদের মধ্যে রক্তাক্ত আহত ৪ জন গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালের অতিরিক্ত ১৩ নম্বর ও বি-৩১ নম্বর মহিলা বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ঐ রবিদাস সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মৃত. পুর্ণ রবিদাসের ছেলে শ্রী জগলাল রবিদাস বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় ১১জনকে আসামী করে একটি এজাহার দাখিল করেছে। থানায় এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ গিদারী কাউন্সিলের বাজার গ্রামের আব্দুল করিম, মোঃ নুরুল ইসলাম, সাইদার রহমান, সালু শেখ, আমিনুল ইসলাম, কবিরন বেগম, দুলালি বেগম, শহিদুল ইসলাম, আমিনা বেগম, রোশনা বেগম ও আব্দুস সালামসহ ১১ জন আসামী সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন থেকে রবিদাস সম্প্রদায়ভূক্ত জগলাল রবিদাসের পারিবারিকভাবে দখলভুক্ত সহায় সম্পদ ও জমি থেকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে নানাভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন করে আসছিল।
এ ব্যাপারে আসামীগণের সাথে গাইবান্ধার বিজ্ঞ আদালতে আপিল মামলা নম্বর- ১৮৯/১৮ চলমান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোপুর্বে গাইবান্ধা সদর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় রেজ্যুলেশন করে উক্ত গ্রামে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সে ব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ও গিদারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নজর রাখতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এমতাবস্থায় গত ১৮ এপ্রিল/১৯ তারিখ সকাল ৭টায় এজাহারভুক্ত আসামীগণ ছোরা, লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এজাহারকারী জগলালের বসত বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ির বাউন্ডারি বেড়া ভাংচুর করে। বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় লক্ষাধিক টাকার গাছপালা কেটে ক্ষতিসাধন করে। এ সময় জগলালের মা কবি রানী ছোটভাই হিটলাল ভাতিজা সুনীল ও বাচ্চু মিয়াগণ আসামীদেরকে বাঁধা দিলে তারা এলোপাথারী মারপিট শুরু করে। তাদের মারপিটে হিটলালের কোমড়ের হাড় ও হাতের কব্জি ভেঙ্গে যায় এবং মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
আসামী সন্ত্রাসী শালু মিয়ার ধারালো ছোড়ার আঘাতে জগলালের মায়ের মাথা গুরুত্বর হাড়কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। আসামী আমিনুলের ছোড়ার আঘাতে সুনীলের বাম কান কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। আসামি ছাইদারের লাঠির আঘাতে বাচ্চু মিয়ার মাথা ফেটে গুরুত্বর জখম হয়।
ঘটনার সময় জগলালের স্ত্রী ফুলমতি রানী ও তার ছোটভাইয়ের স্ত্রী রুনি রানী এগিয়ে এলে তাদেরকেও বেধড়ক মারপিট করে গুরুত্বর আহত করা হয়। এসময় আসামী রোশনা বেগম জগলালের ভাই এর স্ত্রীকে মারপিট করে একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। আসামী ছাইদার জগলালের স্ত্রীকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানী ঘটায়।
এসময় আহত রবিদাস সম্প্রদায়ের আত্ত্বচিৎকারে পাশ্ববর্তী গ্রামবাসী ছুটে এলে আসামীরা জগলালের খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগ করে বীর দর্পে চলে যায়। পরে আহতদেরকে দ্রুত গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় জগলাল রবিদাস বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় ১১জনকে আসামী করে একটি এজাহার দাখিল করেছে।
অপরদিকে আসামী পক্ষ স্থানীয় আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য বাদি পক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়েরের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় গাইবান্ধা জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ পরেশ চন্দ্র সরকার, সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ বকসি সূর্য্য, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ঐক্য পরিষদের সহ সভাপতি দীপক কুমার পাল, সদর উপজেলা ঐক্য পরিষদ ও পূজা পরিষদের সভাপতি মাখন চন্দ্র সরকার ও সুজন প্রসাদ এবং সাধারণ সম্পাদক রকি দেবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

সংবাদটি শেয়ার করুন:

© All rights reserved © 2018-2019  Sabuzbd24.Com
Design & Developed BY Sabuzbd24.Com