রবিবার , ডিসেম্বর 16 2018
হোম / অর্থ-বানিজ্য / চাল আমদানি কমেছে-উৎপাদন ভালো মজুদও বেশি
বাজারে চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এ নিয়ে উদ্বেগ নেই। ফাইল ছবি

চাল আমদানি কমেছে-উৎপাদন ভালো মজুদও বেশি

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম:   

সংসদ নির্বাচন এলেই চালের বাজার নিয়ে সরগরম থাকে রাজনৈতিক মাঠ; ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ। চাল নিয়েই প্রতিপক্ষ পরস্পরকে ঘায়েলে ব্যস্ত থাকে। এবার চিত্রটা বেশ ব্যতিক্রম। এবার নির্বাচন মৌসুমে চালের বাজার বেশ মন্দা, পাইকারি ও খুচরা দুই বাজারেই দাম কম। তাই চাল নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম নেই; মাতামাতিও নেই।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি দুই খাতেই চাল আমদানি অনেক কমেছে। চাহিদার বেশি মজুদ, দেশে উদ্বৃত্ত ফলন এবং অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের চাহিদা পূর্ণ হওয়ায় পাইকারি ও খুচরা দুই বাজারেই বেশ কয়েক মাস ধরে চালের দাম কমেছে। দেশের ভেতর সরবরাহ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক থাকায় চালের বাজার এখন মন্দা। এই অবস্থায় সরকারি চাল আমদানি নেই বললেই চলে। বেসরকারি খাতেও আমদানি ব্যাপকভাবে কমেছে। এই অবস্থায় সরকারও চাল নিয়ে বেশ স্বস্তিতে আছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলছেন, আগে প্রতিটি নির্বাচনের সময় চালের দাম একটি বড় ভূমিকা রেখেছিল। অতীতের সেই অভিজ্ঞতা থেকে সরকার গত বছর থেকেই বিপুল চাল আমদানি করে মজুদ নিশ্চিত করেছে। এই বোরো মৌসুমেও চালের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে নতুন করে চাল আমদানির প্রয়োজন নেই। আগামী ভোটের বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সন্দেহ নেই।

সরকারি হিসাবে, বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চাল আমদানি ছিল রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ৩৯ লাখ টন। এর মধ্যে সরকারি আমদানি ছিল আট লাখ ৮৫ হাজার টন, বেসরকারি খাতে ছিল ৩০ লাখ সাত হাজার টন। কিন্তু চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত চার মাসে মোট চাল আমদানি হয়েছে মাত্র ৮৯ হাজার টন। এর মধ্যে সরকারি খাতে ৩৭ হাজার টন আর বেসরকারি খাতে ৫২ হাজার টন।

ভোগ্য পণ্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের কর্ণধার আবুল বশর চৌধুরী বলছেন, সরকারের ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি, গত এপ্রিলে চালের ভালো ফলন এবং গত বছর চাহিদার অতিরিক্ত চাল আমদানি হওয়ায় বাজারে দাম কমেছে। বিগত বছর চাল এনে অনেকেই লোকসান দিয়েছেন। নতুন করে চাল আমদানির উৎসাহ হারিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ডলারের বিনিময় মূল্য না বাড়লে এবং আন্তর্জাতিকভাবে চালের দাম ঠিক থাকলে নির্বাচনের আগে চালের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই বলেও মনে করেন ভোগ্য পণ্য আমদানিতে অভিজ্ঞ এই ব্যবসায়ী।

জানা গেছে, বোরো মৌসুমে দেশে চালের উৎপাদন ও মজুদ ভালো হওয়ায় কৃষক বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০১৮ সালের জুন মাসে চাল আমদানিতে বিদ্যমান শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা তুলে নিয়েছে। এখন আগের মতোই প্রায় ২৮ শতাংশ শুল্ক দিয়ে চাল আমদানি করতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বাকিতে চাল আমদানির সাময়িক সুবিধাও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর পর বেসরকারি আমদানিকারকরা চাল আমদানির আগ্রহ হারিয়েছেন।

খাদ্য বিভাগ বলছে, সরকারিভাবে ২০১৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া হচ্ছে। প্রতি পরিবার পাঁচজন হিসেবে আড়াই কোটি মানুষ এই সুবিধা ভোগ করছে। এটি চালের বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

কারণ হিসেবে খাদ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার দেশের ভেতর কৃষকদের উৎপাদিত বোরো মৌসুমের চাল কিনেছে প্রায় ১৪ লাখ টন। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারিভাবে বিপুল চাল বিতরণ করায় এখন দেশজুড়ে সরকারের গুদামে গত ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ টন চাল মজুদ আছে। আগামী মৌসুমে চাল উৎপাদন না আসা পর্যন্ত এই মজুদ চাল দিয়ে চাহিদা অনায়াসেই মেটানো সম্ভব; তাই সরকার নিশ্চিন্ত-নির্ভার। এ জন্য নতুন করে সরকারিভাবে চাল আমদানির প্রয়োজন নেই।

চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ওমর আজম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কেন চাল আমদানি হবে? গত বছরের বিপুল চাল এখন আমদানিকারকের গুদামে মজুদ আছে, বাজারে আসেনি। ২৮ শতাংশ শুল্ক দিয়ে চাল আমদানি করে অনেকেই পুঁজি হারিয়েছেন।

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

জনপ্রিয় পোষ্ট আপনার ভাল লাগতে পারে দেখুন “সবুজ বিডি ২৪“ এর সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

অটোমেশন-সিসি ক্যামেরার আওতায় বেনাপোল বন্দর

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক: দু’দেশের আমদানি রফতানি বাণিজ্যকে গতিশীল ও বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।