Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
Home / আন্তর্জাতিক / চীনের বাজারে ঢুকতে মরিয়া ফেসবুক
fb logoooss

চীনের বাজারে ঢুকতে মরিয়া ফেসবুক

অনলাইন ডেস্ক:

বিশাল জনগোষ্ঠীর কারণে চীন ফেসবুকের জন্য আকর্ষণীয় বাজার। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে দেশটিতে সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির ওয়েবসাইট ব্লকড রয়েছে। কিন্তু হাল ছাড়তে নারাজ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ। এরই অংশ হিসেবে চীনে একটি অফিস খুলতে চাইছেন তিনি। দেশটিতে অফিস খুলতে লাইসেন্সও পেয়েছে ফেসবুক, যা বাজারটিতে ঢোকার জন্য ফেসবুকের প্রাথমিক পরিকল্পনা বলে মনে করা হচ্ছে। খবর বিবিসি।

ফেসবুক বলছে, তারা চীনে যে অফিস করবে, তা হবে একটি ‘ইনোভেশন হাব’ বা উদ্ভাবনকেন্দ্র। এখান থেকে দেশটির ডেভেলপার, উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে চীনে ঢুকতে চাইছে ফেসবুক। চীনে ফেসবুকের অফিস খোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তা হবে দেশটিতে ফেসবুকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা।

বিশাল জনগোষ্ঠীর কারণে চীনকে বিশ্বের বৃহৎ সোস্যাল মিডিয়া বাজার মনে করা হয়। তবে দেশটিতে টুইটার, ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো সেবাগুলো ব্লকড রয়েছে। চীনারা শুধু ওয়েইবো, রেনরেন ও ইউকুর মতো স্থানীয় সোস্যাল মিডিয়া সাইটগুলো ব্যবহার করতে পারে। এ সাইটগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে চীন সরকার।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের সোস্যাল মিডিয়া খাত ঘিরে বরাবরই আশাবাদী ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গ। বাজারটিতে প্রবেশে একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। চীনা কর্মকর্তাদের মনোযোগ কাড়তে মান্দারিন ভাষাও শিখেছেন। জাকারবার্গের স্ত্রী শিশু বিশেষজ্ঞ প্রিসিলা চ্যান চীনা বংশোদ্ভূত। তবে এবার চীনে ঢুকতে ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন মার্ক জাকারবার্গ।

চীনের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে অফিস নিবন্ধনের তথ্য সরিয়ে ফেলার আগে দেখা যায়, চীনের দক্ষিণাঞ্চলের শহর হ্যাংঝুতে ফেসবুকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে অফিস নেয়া হয়েছিল। এতে ৩ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা বলা হয়।

২০০৯ সাল থেকে চীনে ফেসবুকের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সেখানে একটি উদ্ভাবনী পরীক্ষাগার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফেসবুক। দেশটির আইন মেনে এটি করা সম্ভব হলে সেখানে ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি হবে প্রতিষ্ঠানটির। একই সঙ্গে চীনা নাগরিকরা বৈধভাবে ফেসবুক ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

ফেসবুক বলছে, তারা এরই মধ্যে ফ্রান্স, ব্রাজিল, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ইনোভেশন হাব চালু করেছে। চীনেও একই রকম হাব করতে চায়। সেখানে প্রশিক্ষণ ও ওয়ার্কশপের পাশাপাশি ডেভেলপার ও উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হবে।

বিশ্বের সব মানুষকে একই কমিউনিটির মধ্যে নিয়ে আসতে কাজ করছে ফেসবুক। এ পর্যন্ত ২২০ কোটি মানুষকে নিজেদের সাইটে যুক্ত করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। কাজেই মার্ক জাকারবার্গ তার গৃহীত পরিকল্পনা থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছেন। চীনের বিশাল জনগোষ্ঠী ফেসবুক সেবার বাইরে থেকে গেছে। দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারলে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়বে এবং জাকারবার্গ তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরো একধাপ এগিয়ে যাবেন।

ইন্টারনেট নিরাপত্তা জোরদারে বরাবরই কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে চীন। বৈশ্বিক ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধের পাশাপাশি পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর কড়া নজরদারি ও ব্যবহারকারীর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে দেশটি। তা সত্ত্বেও দেশটির বিপুলসংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের (ভিপিএন) সহায়তায় ফেসবুকের মতো নিষিদ্ধ সেবাগুলো ব্যবহার করে আসছিলেন। অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে গত বছর শেষ দিকে টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোকে ভিপিএন নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছে টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলো। এর মধ্য দিয়ে চীনাদের বিকল্প উপায়ে ফেসবুক ব্যবহারের সুযোগও স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

বিশ্বব্যাপী এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলাদলি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় ইন্টারনেটকে রণক্ষেত্র মনে করা হচ্ছে। এ কারণে চীন সরকার ইন্টারনেট ব্যবহারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চীন ইন্টারনেট ব্যবহারে বরাবরই তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারটিতে ফেসবুকের প্রবেশের উদ্যোগ কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

যৌন নিগ্রহের পর নানদেরকে গর্ভপাত করানো হয়

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: আবু ধাবিতে মিসরের গ্র্যান্ড ইমামের সঙ্গে চুম্বনের রেশ না কাটতেই আবারো আলোচনায় ক্যাথলিক ...