শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

”চোরাপল্লী” গ্রামে প্রথমবারের মত কেউ এইচ এস সি পাশ করলো

Pabel chora Polli

সুনামগঞ্জ থেকে শাহীন:

গ্রামটির নাম নারকিলা, সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার এই গ্রাম থেকে এবার প্রথম কেউ উচ্চ মাধ্যমিক পাস করল। ছাত্রের নাম পাবেল মিয়া, সে দিরাই ডিগ্রি কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা ২০১৮ তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৩.৮০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার এই কৃতিত্বে পরিবার ও গ্রামবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। তাদের আশা, এবার এই গ্রামটির অতীত দুর্নাম ঘুচবে। অনেকের কাছে গ্রামটির  ‘চোরাপল্লী’ হিসেবে পরিচিত । পাবেলের দরিদ্র পরিবার তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে অনেক দূর, সাথে দুশ্চিন্তায়ও পড়েছে সামনে তার শিক্ষার খরচ জোগানো নিয়ে। সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত শাল্লা উপজেলাধীন হবিবপুর ইউনিয়নের দুর্গমে এই নারকিলা সুবিধাবঞ্চিত গ্রামের অবস্থান। এর পশ্চিমাংশে বর্তমানে ৬০টি পরিবারের প্রায় এক হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস।

ঐতিহ্যগত দিক থেকে বংশানুক্রমিকভাবে এসব পরিবার একসময় চৌর্যবৃত্তির(চুরি কে পেশা মনে করা) সঙ্গে জড়িত ছিল। ১৯৯৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের সময় গ্রামের অনেকে ভোটার হালনাগাদের সময় পেশা হিসেবে ‘চোর’ লিখতে চাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দেশে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাদের পেশারও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু, সামাজিকভাবে আজও তারা অবহেলা ও বঞ্চনার মধ্যে রয়েছে।

গ্রামটি কয়েক শ বছরের পুরনো হলেও এখনো কোনো স্থায়ী ঘরবাড়ি নেই। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত পুরো গ্রামবাসী। খুপরিঘরে তারা বসবাস করছে। বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো কর্মসূচি বা প্রকল্প আজও গ্রহণ কিংবা বাস্তবায়ন হয়নি গ্রামটিতে। দিনমজুরি, গার্মেন্ট ও পাথরকোয়ারিতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছে গ্রামের মানুষগুলো।

বেশির ভাগ মানুষই দিনমজুর। এই গ্রামেরই হতদিরদ্র আব্দুর রহমানের বড় ছেলে পাবেল মিয়া। বাবা খরচ জোগাতে না পেরে একাধিকবার ছেলের পড়ালেখা বন্ধ করিয়েছিলেন। কিন্তু হার মানেনি পাবেল। নিজে শ্রমিকের কাজ করে পড়ালেখা চালিয়েছে। আর এই কঠিন সংগ্রামের ফলে সে এখন গ্রামের প্রথম এসএসসি ও এইচএসসি পাস যুবক। উল্লেখ্য পাবেল শাল্লা উপজেলার শ্যামসুন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় (বিজ্ঞান বিভাগ) ৩.২০ জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। অর্থের অভাবে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ পায়নি সে। এখন এই অভাবী ছাত্র স্বপ্ন দেখছে প্রকৌশলী হওয়ার। তবে বাবার সাধ্য নেই ছেলের ইচ্ছা পূরণ করার। জানা গেছে, পাবেলকে উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনায় বই-খাতা ও বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের সাবেক পুলিশ সুপার মো. হারুনুর রশিদ ও বর্তমান পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান। সে দেশবাসীর কাছে দোয়া সহযোগিতা কামনা করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

© All rights reserved © 2018-2019  Sabuzbd24.Com
Design & Developed BY Sabuzbd24.Com