মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
‘‘সবুজবিডি২৪ ডট কম’’ এ আপনাকে স্বাগতম। সাইটের উন্নয়ন কাজ চলছে... এ সময় আমাদের সাইট ভিজিট করতে একটু সমস্যা হতে পারে সেজন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আশা করছি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

জামালপুরে টুং টাং শব্দে কর্মমুখর কামার পল্লী

Kamar para jamalpur news5165

তুষার, জমালপুর প্রতিনিধি:

আগামী ২২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা অর্থাৎ কুরবানির ঈদ। প্রতি বছর ঘুরে আসে কোরবানী ঈদ। ঈদকে ঘিরে চারিদিকে আনন্দ উৎসব ও চলছে কোরবানীর পশু কেনার ধুম। মানুষ ছুটছেন বিভিন্ন সরঞ্জামাদী বানাতে কামার শালায়। কুরবানির পশু কাটাকুটিতে চাই ধারালো দা, বটি, চাপাতি ও ছুরি। তাই কয়লার চুলায় দগদগে আগুনে গরম লোহার পিটাপিটিতে টুং টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে জামালপুরের কামার শালাগুলো। আর সামনে আগুনের শিখায় তাপ দেয়া, হাতুড়ি পেটানোর টুং টাং শব্দে তৈরি হচ্ছে দা-বটি, চাপাতি ও ছুরি। পশু কুরবানিতে এ সব অতি প্রয়োজনীয়। তাই যেন দম ফেলারও সময় নেই কামারদের। নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ করছেন কামাররা। কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকগুণ ব্যস্ততা বেড়ে যায় কামারদের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জামালপুর  শহর এবং শহরের বাইরের বড় বাজার নান্দিনা, শ্রীপুর কুমারিয়া, বাঁশচড়া, শরিফপুর, তুলসীপুর, কালিবাড়ী, মহেশপুর, শাহবাজপুর, নরুন্দি, ইটাইল, তুলশীরচর, রশিদপুর, তিতপল্লা, মেষ্টা, দিগপাইত প্রভৃতি বাজারের কামারের দোকানগুলোতে দা, বটি, চাপাতি, ছুরি বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কয়লার দগদগে আগুনে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরি, কুরাল, চাকুসহ ধারালো হাতিয়ার। অনেকেই আবার পুরাতন দা, ছুরিগুলো মেরামতের জন্য কামারের দোকানে দাড়িয়ে আছেন। ঈদের দু’দিন বাকি থাকলেও জমে উঠেছে কামারের দোকান। কয়েকজন কামারের সাথে আলাপ করে জানা যায়, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০ টাকা, দা ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বটি ২৫০ থেকে ৫০০, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা, চাপাতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করছে।

রবি কর্মকার বলেন, কোরবানী ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে আমাদের ব্যবসা তত বাড়ছে। তবে আমাদের জ্বালানি কয়লা, লোহা দাম বাড়ছে। কিন্তু জিনিষের দাম বাড়েনি। সারা বছর কাজ না থাকায় অলস সময় কাটাতে হয়। ফলে ওই সময় কোন উপার্জন না থাকায় ছেলে মেয়ে নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটাতে হয়। সাধু কর্মকার বলেন, বাপ-দাদার পৈত্রিক পেশা করে জীবন বাচানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে আমাদের। আমাদের জন্য ডিজিটাল কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সরকার। তাই পেটের দায়ে পৈত্রিক পেশা ছেড়ে দিয়ে বাধ্য হয়ে আমাদের অনেকেই এখন অন্য পেশায় ঝুকছেন। বিপ্লব কর্মকার বলেন, আগের তুলনায় এখন কয়লা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়লা পাওয়া গেলেও দাম অনেক চড়া। আমরা আমাদের ব্যবসায় কোন ঋন পাইনা। কয়লার পরিবর্তে গ্যাস গিয়ে কাজ করলে ভাল হইতো। এই সামর্থ আমাদের নাই। তারপরেও ঈদের সামনে কষ্ট করে কাজ করতেছি বেশী কামানোর আশায়। দোকানে আসা ক্রেতা আবেদ মেম্বার বললেন, গরু কোরবানীর জন্য একটা ছুরি অর্ডার দিয়েছি। ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে কামাররা তাদের মজুরি, ছুরি, দা, চাপাতির দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন। দাম ১ হাজার ২শ টাকা, তবুও অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোরবানীর পশু কেনার জন্য যে সময় লাগে এখন তার চেয়ে বেশী সময় সরঞ্জামাদী বানাতে ব্যয় হয়। এতক্ষন অপেক্ষায় থেকে টুং টাং শব্দে আমরা অস্থির আর উপার্জনে কামারীরা ব্যস্ত।

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

সংবাদটি শেয়ার করুন:

© All rights reserved © 2018-2019  Sabuzbd24.Com
Design & Developed BY Sabuzbd24.Com