Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
Home / সারাদেশ / খুলনা / ঝালকাঠিতে ব্যবসায়িরা শেষ চৈত্রে পুরানো হিসাব-নিকাশ কষতে ব্যস্ত

ঝালকাঠিতে ব্যবসায়িরা শেষ চৈত্রে পুরানো হিসাব-নিকাশ কষতে ব্যস্ত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠির ব্যবসায়ীরা ১৪২৫ শেষ আর ১৪২৬ শুরু এই দীর্ঘ এক বছরের ব্যবসায়ী পুরাতন হিসাব-নিকাশ কষে পাওনা টাকা আদায়ে জন্য ব্যাস্ত সময় পার করছেন। আবহমান বাংলার চির ঐতিহ্য বাঙালির হালখাতা সারাদেশের ন্যায় ঝালকাঠিতেও ব্যবসায়ীরা যুগ যুগ ধরে পালন করছে। দ্বিতীয় কোলকাতা খ্যাত ঝালকাঠির হিন্দু বনেদি ব্যবসায়ীরা বেশ ঘটা করে হালখাতা পালন করেন। রেওয়াজ অনুযায়ী সারা বছরের হিসাব-নিকাশ কষে ব্যবসায়ীরা দেনা পাওনা আদান-প্রদানের জন্য বাংলা ক্যালেন্ডারের শেষ মাস চৈত্র মাসকে ব্যবহার করেন।

ঝালকাঠিতে প্রাচীন আদলে এখন আগের মত হালখাতা উৎসবের কার্ড ছাপা হয় না। একসময় মুসলিম ব্যবসায়ীদের নিমন্ত্রন পত্রে থাকতো মসজিদের মিনার। তবে আড়ৎদার পট্টি এলাকায় অনেক হিন্দু ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে এখনো মাটির সরাতে কলাগাছের পাতা , ডাব এবং উপরে হিন্দু দেবতা গণেশের ছবি থাকে। এ ঐতিহ্য ঝালকাঠি অনেক ব্যবসায়ী ধরে রেখেছেন। তবে মুঠোফোনের খুদে বার্তা হালখাতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আবার বিকাশ ও মুঠোফোনে লেনদেনেও হালখাতার জৌলুশ হারিয়েছে। ব্যবাসায়ী ও সরকারি-বেসরাকারি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আশা এবার ঝালকাঠিতে শেষ চৈত্রে শত কোটি টাকার লেনদেন হবে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , চৈত্রের গরমের খরতাপের মাঝে ব্যবাসয়ীদের ফুসরত নেই। অনেক কাপড় ব্যবসায়ী বিক্রি বাড়াতে মূল্য ছাড়ের অফার দিয়েছে। এই সুযোগে নতুন পুরোনো পণ্য বিক্রি করে দোকান খালি করছেন দোকানদারিরা। বড় আড়ৎ ব্যবসায়ীরা খুচরা ব্যবসায়ী পাওনাদারদের কাছে ফর্দ পাঠিয়ে তাগিদ দিচ্ছেন। প্রতিটি দোকান মালিকেরা তাদের দোকান পরিকষ্কার পরিচ্ছন্ন করছেন। মিষ্টি-বাতাসা ব্যবসায়ীরাও আগাম বায়না নিচ্ছেন। পাওনাদারদের মিষ্টিমুখ করাতে ব্যবাসায়ীরা মিষ্টির দোকানীদের বায়না করছেন। অনেক ব্যবাসায়ির মধ্যে কাঙ্খিত পাওনা টাকা আদায় না হওয়ার আশঙ্কায় রাজ্যে চিন্তা লক্ষ করা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকারি ভাবে পহেলা বৈশাখ পালন করার একদিন পরে ঝালকাঠির হিন্দু ব্যবসায়ীরা ঘটা করে হাল বৈশাখ পালন করেন। তাঁরা পহেলা বৈশাখে ফুল, জড়ি ও রঙ্গিন ফিতা দিয়ে রকমারি সাজে দোকান সাজিয়ে ক্রেতা ও পাওনাদারদের আকর্ষন করেন। যারা দেনা পরিশোধ করেন তাদের মিষ্টি, সন্দেস ও লুসিসহ রকামারি মুখরোচক খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পুরোনো হিসাবের খাতা গুদামজাত করে মহাজনরা নতুন লালসালু মোড়ানো হিসাবের খাতা কিনবে।

ঝালকাঠি কাপুড়িয়া পট্টি এলাকার পাইকারি ব্যবাসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, শেষ চৈত্রে আমরা বিভিন্ন দোকান থেকে পাওনা আদায় করে ঢাকার মহাজনদের দেনা পরিশোধ করি। অনেক টাকা অনাদায় থেকে যায়। তারপরেও বাংলা বছরের চৈত্রের শেষ দশ দিন ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ন।

আড়ৎদার পট্টি এলাকার একজন পাইকারী ব্যবসায়ী বলেন, এ বছর আদায় মন্দ নয়। তবে এখন আর আগের মত শেষ চৈত্রে দোকানে এসে ব্যবসায়ীরা বকেয়ো টাকা পরিশোধ করেনা। অনেকেই ব্যাংকের মাধ্যমে বকেয়া টাকা লেনদেন করেন।

পেয়াজপট্টি এলাকার আর এক বনেদি ব্যবসায়ী বলেন, এখনো ঝালকাঠির হিন্দু ব্যবাসায়ীরা হালখাতার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। আমরা চৈত্র সংক্রন্তি ও মাস পহেলার দিনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেবতার পূজা অর্চনা ও রীতি পালন করে থাকি।

ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী খলিলুর রহমান বলেন, ব্যাবসায়ীরা পহেলা বৈশাখে ফুল, জড়ি ও রঙ্গিন ফিতা দিয়ে রকমারি সাজে দোকান সাজিয়ে ক্রেতা ও পাওনাদারদের আকর্ষন করেন। যারা দেনা পরিশোধ করেন তাদের মিষ্টি, সন্দেস ও লুসিসহ রকামারি মুখরোচক খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

ঝালকাঠি ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জালাল আহম্মেদ বলেন, বাংলা বছরের চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে অন্য সময়ের তুলনায় ব্যাংকিং লেনদেন একটু বেশি হয়।

ঝালকাঠির ব্যবসায়িদের সংগঠন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. সালাউদ্দিন সালেক বলেন, ঝালকাঠিতে ব্যবসায়িরা হালখাতা ও পহেলা বৈশাখ উৎসব মূখর পরিবেশে পালন করেন। যুগ যুগ ধরে এ রেওয়াজ ব্যবসায়ীরা ধরে রেখেছেন। মাস পহেলা মিষ্টিমুখ করানো ও বকেয়া পরিশোধের মধ্য দিয়ে ক্রেতা বিক্রতার মধ্যে এক সেতু বন্ধন তৈরী হয়।

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এবার সন্তান জন্ম দিল অজ্ঞাত পাগলী!

এম আকাশ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:  “পাগলী টা আজ মা হয়েছে তবে বাবা হয়নি কেউ, পাগলী বলে ...