মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
‘‘সবুজবিডি২৪ ডট কম’’ এ আপনাকে স্বাগতম। সাইটের উন্নয়ন কাজ চলছে... এ সময় আমাদের সাইট ভিজিট করতে একটু সমস্যা হতে পারে সেজন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আশা করছি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

নার্সারিতেই কোটিপতি নুর উদ্দিন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের তোতারখিল গ্রামের বাসিন্দা নুর উদ্দিন। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তার বাবা শরাফত আলী মারা যান। তখন নুর উদ্দিনের বয়স ছিল ১ বছর ৯ মাস।

 

একমাত্র সন্তানকে কোলেপিঠে করে বড় করেন মা জীবনের নেছা। কিন্তু চরম অভাব অনটনের কারণে ছেলেকে পড়ালেখার সুযোগ করে দিতে পারেননি তিনি। কিশোর বয়সেই কাজে লেগে যান নুর উদ্দিন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন তিনি। বেশ কিছু দিন রাজধানী ঢাকার সদরঘাট এলাকায় জুতার ব্যবসাও করেন। ১৯৮৮ সালের বন্যায় তার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওইসময় এলাকায় ফিরে আসেন তিনি। অনির্বান ক্লাব নামে স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত হন নুর উদ্দিন।

একদিন ওই ক্লাবের আঙিনায় লাগানোর জন্য পাশের নার্সারিতে গিয়ে দুটি গাছের চারা কেনেন নুর উদ্দিন। সেই থেকে গাছ ও নার্সারির সঙ্গে মিশে যান তিনি। স্বপ্ন দেখেন নার্সারি করার। নিজের কাছে থাকা মাত্র পাঁচশ টাকা নিয়ে তিনি গাছের চারা কেনাবেচা শুরু করেন। প্রথমে ভ্যান গাড়ি ভাড়া করে বিভিন্ন নার্সারি থেকে বীজ, চারাগাছ ও কলম কিনে হাটবাজারে বিক্রি করতেন নুর উদ্দিন।

১৯৯৩ সালে ২ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জে ৩৬ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে নার্সারি শুরু করেন তিনি। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রশিক্ষণ না থাকলেও দেখে দেখে নার্সারি ব্যবসার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন তিনি। এভাবেই ভাগ্য বদলে যায় নুর উদ্দিনের। ২০১০ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের বসুদুহিতা গ্রামে প্রায় ৩ একর জমি ইজারা নিয়ে ‘মায়ের দোয়া আল আমিন নার্সারি’ নামে আরো একটি নার্সারি দেন। এটাই এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নার্সারি।

প্রায় তিন একর জমি জুড়ে নুর উদ্দিনের নার্সারি। বর্তমানে প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের চারা গাছ রয়েছে এ নার্সারিতে। এরমধ্যে রয়েছে শতাধিক প্রজাতির ফলদ, বনজ, ওষুধি, শাক সবজি ও ফুল গাছের চারা। নার্সারির আয় দিয়ে ভালোভাবেই চলছে নুর উদ্দিনের সংসার। এখানে নিয়মিত কাজ করে ১০-১২ জন শ্রমিক। প্রতিমাসে শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় হয় বলে জানিয়েছেন নুর উদ্দিন। বাৎসরিক হিসাবে লাভের পরিমাণ প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মতো। তবে জমির ইজারা বাবদ প্রতিবছর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয় তাকে। এরই মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ৭টি মেলায় অংশগ্রহণ করে উন্নত মানের বীজ, গাছের চারা ও কলম প্রদর্শনীতে ৬ বার পুরস্কার জিতেছেন নুর উদ্দিন।

তিনি বলেন, এক সময় অন্যের নার্সারি থেকে গাছের চারা কিনে ভ্যানে করে বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করতাম। এখন আমার নার্সারি আছে। নার্সারির আয় দিয়ে ভালোভাবেই চলছে আমার সংসার। তাছাড়া আরো অনেকের কর্মসংস্থান করে দিতে পেরে আমি আনন্দিত।

নুর উদ্দিনের নার্সারিতে প্রায়ই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পর্যবেক্ষণে আসেন। যারা বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে জড়িত। চট্টগ্রাম, বরিশাল, বগুড়া ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নার্সারির জন্য বীজ, গাছের চারা ও কলম সংগ্রহ করেন নুর উদ্দিন। আবার নিজের নার্সারি থেকেও তিনি বিভিন্ন জেলায় চারাগাছ ও কলম সরবরাহ করে থাকেন। তবে সারা বছরই জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে, চারাগাছ ও কলমের চাহিদা মিটে এ নার্সারি থেকে। সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা মূল্যের চারাগাছ ও কলম রয়েছে এখানে। এ নার্সারিতে মাসিক বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ টাকা।

নুর উদ্দিনের বয়স এখন প্রায় ৫৮ বছর। তার সংসারে রয়েছে স্ত্রী, ৪ মেয়ে ও ১ ছেলে। ছেলে আল আমিন পড়ছে স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে। ছোট মেয়ে শাহীনুর আক্তার এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। সেজো মেয়ে খালেদা আক্তার পড়ছে কলেজে। বড় দুই মেয়েকে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র নার্সারির আয় দিয়েই ভালোভাবে চলছে নুর উদ্দিনের সংসার। তিনি দায়িত্ব পালন করছেন জেলা নার্সারি এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি হিসেবে।

নুর উদ্দিন বলেন, কৃষি অফিস থেকে একটি সেচের ড্রাম ছাড়া কখনো কোনো সহযোগিতা বা উপকরণ পাইনি। ২০১৭ সালে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় ১৫ লাখ টাকার বীজ, চারাগাছ ও কলম নষ্ট হয়। এরপর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কাছে সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করি। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও কোনো সহযোগিতা পাইনি। অথচ নার্সারি একটি উৎপাদনমুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

সংবাদটি শেয়ার করুন:

© All rights reserved © 2018-2019  Sabuzbd24.Com
Design & Developed BY Sabuzbd24.Com