শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ০১:১৮ অপরাহ্ন

পীরগঞ্জের ঝাড়বিশলায় প্রয়াত সাধক কবি হেয়াত মামুদ এর মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হবে রোববার

স্টাফ রিপোর্ট :

রংপুরের পীরগঞ্জে প্রতিবছরের ন্যায় এবারো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যযুগীয় সাধক কবি কাজী হেয়াত মামুদ(রহঃ) এর মৃত্যু বার্ষিকী । আগামী ১৭ ফেব্রয়ারী প্রযাত কবির মাজার সংলগ্ন ঝাড়বিশলা হায়াতুল উলুম আলিম মাদ্রাসা মাঠে দিন ব্যাপি এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রংপুর -৬ পীরগঞ্জ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী । রাতে সেখানে ইসলামী জলসাও অনুষ্ঠিত হবে । সে লক্ষ্যে ইতমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতিও গ্রহন করা হয়েছে ।

রংপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যেগে এ মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হলেও মুলত অনুষ্ঠানের পুরো ব্যয়ভার বহন করতে হয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীকে । সরকারের আশানুরুপ সহযোগীতা না পাওয়ায় তাই গতবারের মোটা অংকের দেনার দায় নিয়ে এবারো মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অনুষ্ঠানটি করতে গিয়ে বেশ হিমশীম খেতে হচ্ছে ।

বৃহ¯পতিবার কবির মাজার স্থলে গিয়ে একাধিক সুত্র ও এলাকার অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অষ্টাদশ শতাব্দির শ্রেষ্ট বাঙ্গালী কবিদের মধ্যে অন্যতম কবি ছিলেন কাজী হেয়াত মামুদ । অথচ সরকারের তেমন পৃষ্টপোষকতার অভাবে কবির মাজার ও মাজার সংলগ্ন মাদ্রাসা সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে আশানুরুপ উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি । মাজারটি সেকালেরই রয়ে গেছে । যে মহান ব্যাক্তিকে কেন্দ্র করে ১৯৩৯ সনে মাজার সংলগ্ন মাদ্রাসাটি গড়ে উঠেছে বিগত ২০১০ সনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যেগে সে মাদ্রাসাটির একাডেমিক ভবন নির্মান ছাড়া আর তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি ।

যে মসজিদ ও স্মৃতি কেন্দ্র রয়েছে সে গুলোও গড়ে উঠেনি আধুনিকতার সৌন্দর্যে । তবুও এলাকাবাসী কবির স্মৃতি রক্ষার্থে নিজ উদ্যেগে সাধ্যমত উন্নয়নের চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন । বিগত ১৭৬০-৬৫ সনের কোন এক সময় কবি ইন্তেকাল করলেও প্রায় ২শ’ বছর প্রয়াত কবির মাজারটি ছিল অবহেলিত । স্বাধীনতা পরবর্তি বিগত ১৯৭৩ সনে সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমানের উদ্যেগে কবির কবরকে কেন্দ্র করে একটি গৃহ নির্মান হলে মাজারটি দৃশ্যমান হয় । এর পরও কয়েক যুগ মাজারটি অনেকটাই অবহেলিত ছিল ।

এমনি পরিস্থিতির মাঝে বিগত ২০০৫ সনের ১৭ ফেব্রয়ারী তৎকালিন গৃহায়ন ও গণপুর্ত প্রতিমন্ত্রী সেখানে কবির মৃত্যু বার্ষিকী পালনের মধ্যে দিয়ে সেখানে একটি স্মৃতিকেন্দ্র উদ্ভোধন করেন এবং তখন থেকেই প্রতিবছর সরকারী ভাবে কবির মাজার সংলগ্ন স্থানে এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে । কিন্তু কবি পরিবার, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকার অনেকে দিবসটি পালন নিয়ে হতাশা ব্যাক্ত করেছেন । তাদের মতে প্রয়াত সাধক কবির এ দিনটি পালনের জন্য যে মোটা অংকের অর্থ ব্যায় হয়, বলতে গেলে পুরাটাই ব্যায় করতে হয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীকে । সরকারের কাছ থেকে মিলছে না তেমন কোন অর্থনৈতিক সহযোগীতা ।

এক সুত্র মতে বিগত ২০১৮ ইং সনে কবির মৃত্যু বার্ষিকী পালনের জন্য ব্যায় হয়েছিল ৫ লাখের অধিক টাকা । আর সরকারী বরাদ্ধ ৬৫ হাজার টাকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে আয় হয়েছিল সোয়া ৩ লাখ টাকা । অবশিষ্ট অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ব্যায় পরিশোধ করতে হয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে । যা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাধে দেনা রয়েছে । আর এ দেনার মাঝেও এ বছরেরও ১৭ ফেব্রয়ারী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অনুরুপ আয়োজন করতে হচ্ছে । তাই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

বৃহ¯পতিবার সরেজমিন অনুষ্ঠান স্থল পরিদর্শন কালে মাদ্রাসটির অধ্যক্ষ আঃ সালেক সরকার এর সঙ্গে কথা হলে তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, অনুষ্ঠানটির জন্য এখনও কোন সরকারী সহায়তা পাওয়া যায়নি । পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা সে ব্যাপারে তিনি সন্দিহান । এদিকে এলাকার অনেকেই তাদের অভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মহান কবির মৃত্যু বার্ষিকী পালনের জন্য প্রতিবছর সরকারী ভাবে কোন নিদৃষ্ট পরিমান অর্থ বরাদ্ধের বিষয়টি নিশ্চিত হলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিংবা এলাকাবাসী অনেকটাই দুশ্চিন্তা মক্ত থাকবেন এবং অনুষ্ঠানটি আরও প্রানবন্ত হবে । তাই তারা এ ব্যাপারে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন ।

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

সংবাদটি শেয়ার করুন:

© All rights reserved © 2018-2019  Sabuzbd24.Com
Design & Developed BY Sabuzbd24.Com