বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন

যাদের বাতিল মনোনয়নপত্র বৈধতা পেতে পারে

মাহাবুব, ঢাকা:

এবার নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রেকর্ড সংখ্যক ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়ন বাতিল হয়েছে মোটা দাগে পাঁচটি কারণে। এগুলো হলো:

* আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত: আদালত থেকে কেউ দণ্ডপ্রাপ্ত হলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অনুশাসন অনুযায়ী তাঁর দণ্ড বা সাজা স্থগিত না হলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। তাই দণ্ডপ্রাপ্তরা কারাগারে, জামিনে অথবা পলাতক যাই থাকুক না কেন নির্বাচন করতে পারবেন না।

* ঋণখেলাপি: ঋণখেলাপি থাকার কারণে অনেকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

* নথিপত্রে গড়মিল: একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দিতে হয়। যেমন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। এসব নথিপত্রে গড়মিল থাকায় অনেকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

* স্বাক্ষর না থাকা: মনোনয়নপত্র বা হলফনামায় কেউ স্বাক্ষর না করলেও তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এই কারণেও এবার কিছু মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

* অন্য পদে থাকা: কেউ উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভা মেয়র বা অন্যকোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোনো পদে থাকলে তাঁকে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। অনেকেরই পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে দেখা যাচ্ছে, তিনটি ক্ষেত্রে যাঁদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তাঁরা মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

প্রথমত, বিএনপির কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন প্রার্থীর স্বাক্ষর গড়মিলের কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তাঁদের মনোনয়নপত্রে দলীয় মহাসচিবের স্বাক্ষর গড়মিল ছিল। স্বাক্ষরকারী ব্যক্তিই যদি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বলেন স্বাক্ষরটি তাঁর সেক্ষেত্রে স্বাক্ষর মিল থাকুক বা না থাকুক ওই মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য হবে।

নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ক আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু নির্বাচনের ক্ষেত্রেই নয় যে কোনো বিষয়ে (এমনকি ব্যাংক চেকের ক্ষেত্রেও) যিনি স্বাক্ষর দিয়েছেন তিনি যদি বলেন, স্বাক্ষরটি তাঁর এবং তিনি যদি প্রত্যয়ন করেন তাহলে স্বাক্ষরটি বৈধ বলেই বিবেচিত হবে। অনেক সময়ই নানা কারণে স্বাক্ষরে গড়মিল হতেই পারে।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জ-৩ এর বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিলেন দলীয় মহাসচিবের সাক্ষরে মিল না থাকার কারণে। একইভাবে মানিকগঞ্জ-২ আসনে মইনুল ইসলাম খান, রাজশাহী-৩ এর আবু বকর সিদ্দিকী, নেত্রকোনা-৫ আসনের দুই প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার ও রাবেয়া খাতুনের মনোনয়নপত্রই বাতিল হয় বিএনপি মহাসচিবের স্বাক্ষরে মিল না থাকায়। এখন বিএনপি মহাসচিব যদি লিখিত ভাবে প্রত্যয়ন দেন যে স্বাক্ষরগুলো তাঁর সেক্ষেত্রে উল্লিখিতদের মনোনয়ন ফিরে পাওয়া সম্ভব বলে আইনজীবীরা মনে করছেন।

দ্বিতীয়ত, মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না করার কারণে যাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তাদেরটি বৈধ হতে পারে। এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, কোনো মনোনয়নপ্রার্থীর স্বাক্ষর দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আপিলে গিয়ে তিনি যদি নির্বাচন কমিশনের সামনে স্বাক্ষর দেন, তাহলে তাঁর মনোনয়ন বৈধ বলে বিবেচিত হবে। তাই, পটুয়াখালী-৩ আসনের গোলাম মাওলা রনিসহ স্বাক্ষর না দেওয়ার কারণে যাঁদের মনোনয়পত্র বাতিল হয়েছে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের সামনে স্বাক্ষর করে মনোনয়ন ফিরে পেতে পারেন।

তৃতীয়ত, স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে গেলে প্রথমত তাঁকে পদ থেকে সরে যেতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের পদ থেকে সরতে হলে পদত্যাগ করতে হবে স্থানীয় সরকারের কাছে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় এমন অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারাও মনোনয়ন ফিরে পাবেন বলে মনে করেন আইনজ্ঞরা।

ড. শাহদীন মালিকের মতে, পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়া না হওয়া কোনো বিষয় নয়। কোনো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যদি স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়পত্র জমা দেন এবং এই জমাদানের ‘রিসিভ কপি’ তিনি যদি দেখাতে পারেন, তাহলেই তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে তাঁদেরও মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও যদি ফল না পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিষয়টি বৈধ করে দিতে পারে। এর আগেও এমন ঘটনা দেখা গেছে।

বগুড়া-৭ এ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান মোরশেদ মিল্টন, পঞ্চগড়-১ এর প্রার্থী পৌরসভা মেয়র তৌহিদুল ইসলাম, নওগাঁ-৫ থেকে বিএনপির প্রার্থী পৌরসভা মেয়র নাজমুল হক, মানিকগঞ্জ-২ এর প্রার্থী সিঙ্গাইর উপজেলার চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান, নীলফামারী-৩ এ প্রার্থী পৌরসভা মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী ও নীলফামারী-৪ এ প্রার্থী পৌরসভা মেয়র আমজাদ হোসেনের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি বলে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তাঁদেরও মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

উল্লিখিত তিনটি বিষয়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনে আপিল, পরবর্তীতে প্রয়োজনে আদালতে গিয়ে মনোনয়ন বৈধ করতে পারবেন বলে একাধিক আইনজীবী জানিয়েছেন।

এছাড়া, ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে যাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাঁরা যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেখাতে পারেন ঋণ পুন:তফসিল হয়েছে, ঋণ পরিশোধ হয়েছে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ পরিশোধ, পুন:তফসিলের নথিপত্র যদি তাঁরা নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে পারেন, তাহলে তাঁদের মনোনয়নপত্রও বৈধ হবে। এক্ষেত্রে গণফোরাম থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে অবৈধ হওয়া রেজা কিবরিয়ার মতো প্রার্থীরাও মনোনয়ন ফিরে পারেন।

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

সংবাদটি শেয়ার করুন:

© All rights reserved © 2018-2019  Sabuzbd24.Com
Design & Developed BY Sabuzbd24.Com