Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
Home / সারাদেশ / রংপুর / রংপুরে আইনজীবী রথীশ খুনের দায়ে স্ত্রীর ফাঁসি
স্বামী রথীশের সঙ্গে স্নিগ্ধা। -ফাইল ছবি

রংপুরে আইনজীবী রথীশ খুনের দায়ে স্ত্রীর ফাঁসি

রংপুর প্রতিনিধি:

বহুল আলোচিত রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রথীশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে বাবুসোনা হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার ওরফে দীপাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ বি এম নিজামুল হক এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার একমাত্র জীবিত আসামি স্নিগ্ধা সরকারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার পর তাঁকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই আদালতের পিপি আব্দুল মালেক আদেশের বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

পিপি জানান, আইনজীবী রথীশ হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী স্নিগ্ধা ও তাঁর প্রেমিক কামরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম আরিফা ইয়াসমীন মুক্তার আদালতে

অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আল-আমিন। পরে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। ওই বছরের ২১ অক্টোবর অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচারকাজ শুরু করেন বিচারক। মামলায় মোট ৩৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর গত ২১ জানুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন বিচারক।

অভিযোগপত্রভুক্ত দুই আসামির মধ্যে একমাত্র জীবিত আছে রথীশের স্ত্রী স্নিগ্ধা। অন্য আসামি স্নিগ্ধার প্রেমিক কামরুল ইসলাম গত বছরের ১০ নভেম্বর ভোরে কারাগারে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পরপরই মারা যায় কামরুল।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নগরীর তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা স্নিগ্ধা সরকারের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলামের। মূলত পরকীয়া প্রেম, পারিবারিক অশান্তি ও আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের অর্থ-সম্পত্তি আত্মসাতের আশায় তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে স্নিগ্ধা ও কামরুল। গত বছর ২৯ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রথীশকে ভাত ও দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায় স্ত্রী।

ঘটনার দুই ঘণ্টা আগে থেকেই তাদের শোবার ঘরের পাশে অবস্থান নেয় কামরুল। ওষুধ খাওয়ানোর পর রথীশ অচেতন হয়ে পড়লে কামরুল ঘরে ঢুকে স্নিগ্ধাকে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করে। এরপর তাঁর লাশ নগরীর তাজহাট মোল্লাপাড়ায় প্রেমিক কামরুলের ভাইয়ের নির্মাণাধীন বাড়ির ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়। ৩ এপ্রিল মধ্যরাতে স্নিগ্ধাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব আটক করে। সে রথীশকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন রাতে রথীশের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্নিগ্ধা ও কামরুল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে।

এ ঘটনায় আইনজীবী রথীশের ছোট ভাই সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিক বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় স্নিগ্ধা ও কামরুল ছাড়াও গ্রেপ্তার করা হয় রথীশের সহকারী মিলন মোহন্ত, ছাত্র মোল্লাপাড়া এলাকার সবুজ ইসলাম ও রোকনুজ্জামানকে। ওই বছরের ১৩ এপ্রিল রাতে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মিলন মোহন্ত। হত্যাকাণ্ডে দুই শিক্ষার্থী রোকন ও সবুজের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এবং মিলন মোহন্ত মারা যাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রাজারহাটে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে!

রমেশ চন্দ্র সরকার, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ।। দীর্ঘদিন যাবৎ এমপিও(মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) না হওয়ায় রাজারহাট ...