মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
‘‘সবুজবিডি২৪ ডট কম’’ এ আপনাকে স্বাগতম। সাইটের উন্নয়ন কাজ চলছে... এ সময় আমাদের সাইট ভিজিট করতে একটু সমস্যা হতে পারে সেজন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আশা করছি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

লালমনিরহাট জেলা শহরের মসজিদ গুলোতে চোর আতংক- দানবাক্স ভেঙ্গে চুরি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।
লালমনিরহাটে চোরের উপদ্রবে শহরের কোন মসজিদের দানবাক্স থেকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। চুরি হচ্ছে মাইকের মেশিন, বারান্দার এলএডি বাল্প, ঘরি ও ফ্যান। একবার দুবার নয় বরং বারবার দানবাক্স ভেঙ্গে টাকা চুরি করছে সংঘবদ্ধ চোরের দল। এতেকরে চোর আতংক দেখা দিয়েছে গোটা শহর জুরে।
চাঞ্চল্যকর এমন চুরির ঘটনাগুলো সংগঠিত হয়েছে গেল ২ মাসে লালমনিরহাট জেলা শহরের প্রায় সবগুলো মসজিদেই।
এদিকে চুরির ঘটনায় মসজিদ কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ দিলেও পাওয়া যায়নি কোন পুলিশি সহায়তা এমন অভিযোগও করেছেন মসজিদ কমিটির নেতারা। অন্যদিকে মসজিদের দানবাক্স ভেঙ্গে টাকা চুরির খবর পেয়ে একটি মসজিদের খাদেম  দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে মসজিদের দানবাক্সের সামনেই  স্ট্রক করে পরবর্তীতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে সরেজমিন জেলা শহরের বসুন্ধরা জামে মসজিদ, বিডিআর হাটখোলা জামে মসজিদ, বালাটারী জামে মসজিদ, এসিল্যান্ড জামে মসজিদ, বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ ঘুরে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পাওয়া গেছে চুরির সত্যতা। উল্ল্যেখিত মসজিদগুলো ছাড়াও শহরের অন্যান্য মসিজেদগুলোরও একই অবস্থা বলে জানাগেছে। এবিষয়ে সরেজমিন বিডিআর হাটখোলা জামে মসজিদে গেলে সেখানকার মুসল্লীরা জানান,‘ গেল ৩ এপ্রিল দুপুরে যোহরের নামাজের পর মসজিদের দানবাক্সের তালা ভাঙ্গা অবস্থায় দেখতে পান মসজিদের মোয়াজ্জিম লুৎফর রহমান (৬৫)।
’এসময় তিনি চিৎকার চেচামেচি করে স্থানীয় দের ডাকেন এবং ঘটনাস্থলেই অসুস্থ্য হয়ে সঙ্গা হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে তাকে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কিছুটা সুস্থ্য হয়ে ৭ এপ্রিল বাড়িতে আসেন। কিন্তু দানবাক্স চুরির বিষয়ে সবসময় চিন্তাগ্রস্থ থাকতেন।
এরই মধ্যে ২য় দফায় গেল ১৪ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন ওই খাদেম। স্থানীয় মুসল্লী, মসজিদ কমিটি ও মুয়াজ্জিনের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ,‘ মসজিদের টাকা চুরি যাওয়ার জন্যই অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়েই তিনি স্ট্রক করে মারা গেছেন।
’এবিষয়ে মৃত খাদেমের লুৎফর রহমানের বড় ছেলে রায়হান ভুট্টু বলেন,‘ তার বাবা চুরির দিনই দানবাক্সের সামনে বুক চেপে ধরে সঙ্গা হারান। এই মৃত্যুর জন্য চোর দায়ী।’ এই মসজিদের সভাপতি এসকে খাজা মঈনুদ্দিন বলেন,‘ আংশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে আল্লাহর ঘর রক্ষা পাবে কেমনে?’ তিনি এসব ঘটনার জন্য পুলিশি উদাসীনতাকে দায়ী করেন।
এদিকে বিডিআর হাটখোলা জামে মসজিদের অদূরেই আলোরুপা মোড়ে প্রেসক্লাবের সামনে বসুন্ধরা জামে মসজিদের সুরক্ষিত দানবাক্স এক মাসের ব্যবধানে ৩ বার তালা ভেঙ্গে চুরি হয়েছে। মসজিদের পেশ ইমাম শাহাদাত নাইম বলেন,‘ প্রতি মাসে গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পাওয়া যেত বাক্স খুলে, কিন্ত গেল এক মাসেই ৩ বার চুরি হওয়ায় তারা কোন টাকা পাচ্ছেন না।
শুধু তাই নয় নামাজ চলাকালীন সময়েও পেশ ঈমামের থাকা ঘরেরও তালা ভেঙ্গে চুরির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এবিষয়ে থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও কোন প্রকার পদক্ষেপ নেয়নি সদর থানা পুলিশ। এবিষয়ে ওই মসজিদের সাধারন সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান বলেন,‘ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও একবারের জন্যও তদন্তে আসেনি পুলিশ।
’তিনি বলেন,‘ চুরির অভিযোগ পুলিশ নিতেই চায় না, অথচ গোটা শহর এখন চোর আতংকে রয়েছে।’ কথা হয় এসিল্যান্ড অফিস সংলগ্ন এসিল্যান্ড মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ ফজলুল করিমের সাথে।
তিনি বলেন,‘ প্রতি সপ্তাহেই দানবাক্সের তালা ভেঙ্গে টাকা চুরি হচ্ছে। তাই এখন বাধ্য হয়ে দানবাক্সে আর তালাই দিচ্ছেন না তারা।’ এছাড়াও বালাটারী জামে মসজিদের পেশ ইমাম আব্দুস সালাম বলেন,‘ তাদের মসজিদে একাধিকবার দূর্ধষ চুরি সংগঠিত হয়েছে।
মসজিদের বারান্দা ও প্রধান ফটকের তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে দানবাক্সের তালা ভেঙ্গে চুরি হয়েছে একাধিকবার।’ ওই মসজিদের কমিটির সভাপতি শহিদুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘ মসজিদের টাকা চুরির যেন হিরিক পরেছে শহরে। দেশের কোথাও মনে হয় এমন পরিস্থিতি নেই।’
একই রকম অভিযোগ শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশনমোড়- ডিসি রোডের সামনেই বায়তুল ফালাহ্ জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষের। এই মসজিদের দানবাক্সও একাধিকবার চুরি হওয়ার কথা জানিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে পেশ ইমাম গোলাম মোস্তফা  বলেন,‘ আল্লাহর ঘরও আজ নিরাপদ না এই শহরে।
’এদিকে এমন চুরির ঘটনায় অনেকটা আতংক ছড়িয়ে পরেছে গোটা শহরজুড়ে। মসজিস সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের দাবি হঠাৎতই শহরের মাদকসেবীদের উপদ্রব বেড়েছে। পুলিশি উদাসীনতার কারনে মূলত মাদকসেবীরা সংঘবদ্ধভাবে মাদকের টাকা জোগাড় করতেই এসব চুরি করতে পারে বলে অভিযোগ তাদের। এদিকে গেল ২ মাসে একাধিক মসজিদের দানবাক্সের পাশাপাশি একাধিক বাসা ও দোকানেও চুরি সংগঠিত হলেও পুলিশি তৎপরতা তেমন লক্ষ করা যায়নি।
ভুক্তোভোগীদের অভিযোগ থানায় অভিযোগ দিলেও চুরির অভিযোগ নিতে চায় না পুলিশ। একারনে অনেকেই থানায় যেতে নিরুৎসাহিত বোধ করেন। চুরি এবং চুরির অভিযোগ পাওয়ার পরেও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে অনেকটা দায়সারা ভাবে বলেন,‘ শুধু একটি মসজিদ চুরির বিষয়ে শুনেছিলাম এবং সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম।’ বাকি মসজিদগুলোর অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

সংবাদটি শেয়ার করুন:

© All rights reserved © 2018-2019  Sabuzbd24.Com
Design & Developed BY Sabuzbd24.Com