বুধবার , ডিসেম্বর 19 2018
হোম / শিক্ষা সম্পর্কিত / শিক্ষা তথ্য

শিক্ষা তথ্য

 

সবুজ বিডি ২৪:- স্টাফ রিপোর্ট:

“শিক্ষা” একটি দেশ ও জাতির উন্নয়নের প্রধান সিঁড়ি। যেটি ছাড়া একটি দেশের উন্নতি অসম্ভব। সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নতির প্রধান হাতিয়ার হলো এই শিক্ষা। প্রাচীন যুগে এই শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল আত্মার উন্নতি সাধন। যার জন্য প্রয়োজন হতো সাধনা, চিন্তা ও আত্মসংযম। শিক্ষা প্রক্রিয়ায় কোন ব্যক্তির মাঝে অন্তর্নিহিত যে গুণাবলী রয়েছে সেগুলোকে পূর্ণ বিকাশের জন্য উৎসাহ দেয়া হয় এবং সমাজের একজন দক্ষ ও উৎপাদনশীল সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভের জন্য যে সকল দক্ষতা প্রয়োজন সেগুলো অর্জনে সহায়তা করা হয়। সাধারণ অর্থে জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জনই শিক্ষা। ব্যাপক অর্থে পদ্ধতিগতভাবে জ্ঞানলাভের প্রক্রিয়াকেই শিক্ষা বলে। তবে শিক্ষা হল সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের অব্যাহত অনুশীলন। সক্রেটিসের ভাষায় “শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ।” এরিস্টটল বলেন “সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হল শিক্ষা”। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় “শিক্ষা হল তাই যা আমাদের কেবল তথ্য পরিবেশনই করে না বিশ্বসত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে।” অবিভক্ত ভারতবর্ষের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে প্রচলিত প্রাথমিক শিক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রচলন কখন কোথায় প্রথম শুরু হয় তা বলা বেশ কঠিন। আনুমানিক ৩০০০ বছরেরও পূর্বে এ উপমহাদেশে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বীজ রোপিত হয় যা কালের আবর্তনে পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে সেই শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে আমরা সেই শিক্ষা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কি সঠিক ও কার্যকরি শিক্ষাব্যবস্থা? সেটা হয়তো এখনো হয়নি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বিভিন্ন সমস্যা। গত কয়েক বছরে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ভয়াবহ থাবা বসাচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। আজ শোনলাম শিক্ষকদের কল্যাণে দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রশ্নও নাকি ফাঁস হয়েছে। ভাবতে পারেন কতটা ভয়াবহ? এটা সংক্রমণ রোগের মতো প্রতিনিয়ত পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে সংক্রমিত করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিলেবাস প্রনয়ণ, অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা, অদক্ষ শিক্ষক, শিক্ষকদের সদিচ্ছার অভাব বিভিন্ন সমস্যায় বিজড়িত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। তারপরও কিছুটা হলেও তো আমাদের শিক্ষা গ্রহনের সুযোগতো আছে। সেই শিক্ষাটুকু আমরা যারা শিক্ষার্থী আছি ভালোভাবে অর্জন করতে পেরেছি? কয়েকজন পারলেও অধিকাংশই এখনো তা পারিনি। আমি এমনো অনেককে দেখেছি গ্রাজুয়েশন শেষ করার পরও সঠিকভাবে ইংরেজী পর্যন্ত পড়তে পারেনা। ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলে বাংলা লেখাটাও ভুল করে। (এই ফেসবুক কান্ড নিয়ে আরেক দিন লিখবো)। অনেকে বলবে আমাদের সেভাবে শিখানো হয়নি। আমি তাদের বলবো, মানলাম হয়নি, তো নিজে কী করছেন? এখন অনেক উপায় আছে শেখার, নিজে শিখুন। সবাই যে অত্যন্ত মেধাবী হবে আমি এটা বলছিনা। এটা সম্ভবও না। তবে আপনি যতটুকু পড়াশুনা করছেন তা তো ভালোভাবে শিখবেন। আপনি গ্রাজুয়েশন করার পরও যদি সঠিকভাবে ইংরেজী, বাংলা পড়া ও লেখা ভুল করেন। আমি বলবো এটা একান্তই আপনার ব্যর্থতা, অন্যকিছুকে দোষারোপ করার সুযোগ নেই। এসব লোকেই বলে চাকরি পাইনা, দেশে চাকরি নেই, ঘুষ ছাড়া চাকরি হয় না। হ্যা, এটা ঠিক আমাদের দেশে লোকসংখ্যার তুলনায় চাকরি কম, দুর্নীতিও আছে। তাই বলে যে ঘুষ ছাড়া একদমই চাকরি হয়না এটা মানতে পারলাম না। একবার ভাবুনতো, লোকসংখ্যা বেশি আর চাকরি কম, তাহলে ভালো যোগ্য প্রার্থী না নিয়ে আপনার মতো অযোগ্যকে তারা নিবে কেনো? বাজারে পণ্যের সরবরাহ বেশি হলে আপনিও তখন কম দামে ভালো পণ্যটাই কিনতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। তেমনি তারাও এতো লোকের মাঝে যে সবচেয়ে যোগ্য তাকেই নিবে এটাও স্বাভাবিক। আর যারা অযোগ্য তাদের ঐ অযোগ্য জায়গাটা পুরণ করতেই তখন ঘুষ দিতে হয়। কম চাকরি আর বেশি চাকরি প্রার্থীর মাঝে আপনাকে একটু বেশিই যোগ্য হতে হবে এটাই স্বাভাবিক, তানাহলে আপনি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বেন। এখন অনেকে মনে করবেন বেশি জনসংখ্যা একটা বোঝা। একবার ভাবুন তো আমরা সবাই যদি শিক্ষিত ও দক্ষ হতে পারি তাহলে এই বোঝাটাই একদিন সম্পদে পরিণত হবে। তখন নতুন নতুন চাকরির বাজার তৈরি হবে। তখন দেখবেন আপনি চাকরিকে না বরং চাকরি আপনাকে খুঁজবে। এবার আসি আমাদের অভিবাবকদের কথায়। আমরা এখনো বলতে গেলে প্রায় ৮০ ভাগ ( আনুমানিক) অশিক্ষিত অভিবাবকদের সন্তান। এটাও আমাদের অনেক বড় একটা বাঁধা। তারপরও আর ২০ ভাগ যারা আছে তারা কি সঠিকভাবে সন্তানদের গড়ে তুলতে পারছে? এদের বেশির ভাগই শহর এলাকার। একজন সন্তান শিক্ষকদের আগে পিতা-মাতার সংস্পর্শে থাকে। তাই তাদের দায়িত্বটাও বেশি। কিন্তু দূঃখজনক হলেও সত্য তারা সেভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেনা। ছোট ছোট শিশুদের বিভিন্নভাবে তারা প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছে যেমন- অতিরিক্ত প্রাইভেট, কোচিং, গানের ক্লাস, নাচের ক্লাস, পাশের বাসার ভাবির ছেলে প্রথম হয়েছে তোমাকেও প্রথম হতে হবে, বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়তে হবে, ডাক্তার- ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। এমনভাবে তারা নিজেদের ইচ্ছা সন্তানদের উপরে চাপিয়ে দিচ্ছে। সন্তানের ভালো লাগা, খারাপ লাগা তাদের কাছে কিছুই না। সবশেষে একটা কথা বলতে চাই সফল হতে গেলে বিভিন্ন সমস্যা থাকবেই। হ্যা এটা ঠিক অভিবাবক ও শিক্ষকদের অবহেলার কারণে প্রথমে আমরা তেমন ভালো গাইডলাইন পাইনা। তবে একটা সময়তো আসবে যখন আমাদের জানার ও বোঝার ক্ষমতা হবে তখন আমাদের ঐ সময়টুকু সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে সফল আপনি হবেন তাই কষ্টটাও আপনারি বেশি করতে হবে। নিজের চেষ্টা, শ্রম দিয়ে সমস্যা মোকাবেলা করে সফল হতে হবে। এমনভাবে শিক্ষা অর্জন করা উচিত যাতে শিক্ষাকেও যেন শিক্ষা দেওয়া যায়। শিক্ষাকে শিক্ষা দেয়া বলতে বোঝানো হয়েছে এমনভাবে শিক্ষা অর্জন করতে হবে যেন নতুন নতুন চিন্তা ভাবনা দিয়ে শিক্ষাটাকে যেন আরো উন্নত ও আধুনিক করা যায়। দার্শনিক কনফুসিয়াসের একটা কথা আছে- “চিন্তা ব্যতীত শিক্ষা হচ্ছে বৃথা আর শিক্ষা ব্যতীত চিন্তা হচ্ছে বিপদজনক।” তাই শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি আমাদের চিন্তাভাবনা ও গবেষনার মাধ্যমে শিক্ষার সুফল ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই শিক্ষা অর্জন করাটা সার্থক হবে। (এটা লেখকের একান্তই ব্যক্তিগত মতামত। কারো মতাদর্শের সাথে নাও মিলতে পারে) তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া।

জনপ্রিয় পোষ্ট আপনার ভাল লাগতে পারে দেখুন “সবুজ বিডি ২৪“ এর সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

ইবি উপাচার্য রাশিদ আসকারীর Nineteen Seventy One and Other Stories গ্রন্থটির ফরাসি অনুবাদের মোড়ক উন্মোচন

ইবি প্রতিনিধিঃ বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাশিদ আসকারীর ইংরেজি গল্প সংকলন …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।