Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
Home / অন্যান্য / ধর্ম / শেষ মুহূর্তে রাসুল (স.) এর ওসিয়ত

শেষ মুহূর্তে রাসুল (স.) এর ওসিয়ত

ধর্ম ডেস্ক:

শেষ মুহূর্তে রাসুল (স.) এর ওসিয়ত:

অন্যান্যদের উপস্থিতিতে মহানবী (স.) আলী (আ.) এর দিকে তাকালেন এবং তার উদ্দেশ্যে ওসিয়ত করতে চাইলেন, বললেন : কাছে এসো। অতঃপর তিনি নিজের যেরা (যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত ইস্পাতের তৈরী জামা), তলোয়ার, আংটি ও সিল আলী (আ.) কে দিয়ে বললেন : ‘বাড়ীতে যাও’। এর কিছুক্ষণ পর তাঁর অসুস্থতা তীব্র আকার ধারণ করলো। তিনি পূনরায় স্বাভাবিক হওয়ার পর আলী (আ.) কে কাছে না পেয়ে স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বললেন : ‘আমার ভাই ও সহচর কোথায়’। তারা আবু বকরকে ডেকে পাঠালেন। তিনি আসলে মহানবী (স.) পূনরায় একই বাক্য পূনরাবৃত্তি করলেন। অতঃপর তারা উমরকে ডেকে নিয়ে এলেন। কিন্তু মহানবী (স.) আবার বললেন : ‘আমার ভাই ও সহচর কোথায়’। উম্মু সালামাহ বললেন : তিনি আলীকে খোঁজ করছেন, তাকে আসতে বলো।[১৩] আলী (আ.) আসলেন, অতঃপর তারা দু’জনে কানে কানে কিছুক্ষণ কথা বললেন। যখন আলী (আ.) কে জিজ্ঞেস করা হল যে মহানবী (স.) কি বলেছেন?

তিনি উত্তরে বললেন : আমাকে তিনি জ্ঞানের ১০০০টি অধ্যায়ের শিক্ষা দিয়েছেন এবং প্রতিটি অধ্যায় হতে আমার জন্য ১ হাজারটি অধ্যায় উন্মুক্ত হয়েছে। আর আমাকে কিছু কাজের কথা বলেছেন, যেগুলোকে আমি অবশ্যই আঞ্জাম দেব।[১৪] ঐ অবস্থায় মহানবী (স.) কয়েকবার বললেন : ((ما ظن محمد بالله لو لقی الله و هذه عذره عنده))

জীবনের শেষ দিনগুলির একটিতে তিনি মুসলমানদেরকে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার লক্ষ্যে আহবান জানানোর জন্য হযরত বিলাল (রা.) কে নির্দেশ দিলেন। তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বললেন, যদি তিনি কারো নিকট ঋণী থাকেন তবে তারা যেন দাবী করে। মহানবী (স.) এ কথার কেউ কোন উত্তর দিল না, তিনি এ কথাকে তিনবার পূনরাবৃত্তি করলেন। এমন সময় ভীড়ের মধ্য হতে ‘উক্কাশাহ’ নামক এক গোলাম (দাস) উঠে দাঁড়িয়ে নিজের অধিকার দাবী করলো। মহানবী (স.) হতে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য একটি চাবুক প্রস্তুত করলো; কিন্তু প্রতিশোধ নেওয়ার সময় প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে হযরত মুহাম্মাদ (স.) কে জড়িয়ে ধরে ক্রন্দন শুরু করলো এবং তাঁকে ক্ষমা করে দিল। মহানবী (স.) বললেন : সে বেহেশতে আমার বন্ধু হবে।[১৫]

অতঃপর তিনি হযরত আলী (আ.) কে নির্দেশ দিলেন তাঁর এক স্ত্রীর নিকট বিদ্যমান অর্থ দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করার জন্য।

ফাতিমার (সা. আ.) বাবার সাথে শেষ বিদায়:

আল্লাহর রাসূল (স.) এর জীবনের শেষ মুহূর্তে হযরত ফাতিমা (সা. আ.) অত্যাধিক ক্রন্দন করছিলেন। তাঁকে কাছে ডেকে তিনি (স.) কিছু বললেন। ফাতিমা (সা. আ.) আরো তীব্রভাবে ক্রন্দন শুরু করলেন। তিনি (স.) আবার ফাতিমা (সা. আ.) কে পূনরায় কিছু বললেন। এবার তিনি মুচকি হাসলেন। পরবর্তীতে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন : প্রথমে আল্লাহর রাসূল (স.) বলেছিলেন : ‘এ ব্যাথাতেই আমার মৃত্যু হবে’। তিনি মুচকি হাসার কারণ এভাবে বলেন যে, তিনি আমাকে বলেছিলেন : ‘আমার আহলে বাইতের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যে আমার সাথে মিলিত হবে’ এ কারণেই আমি মুচকি হেসেছিলাম।[১৭]

মহানবী (স.) পার্থিব জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো অতিক্রম করার সময় তার মাথা হযরত আলী (আ.) এর কোলে ছিল।[১৮]

রাসুল  (স.) এর কাফন ও দাফনকার্য:

মহানবী (স.) এর ইন্তিকালের পর দ্বিতীয় খলিফা কোন কারণে বাড়ীর বাইরে এসে চিত্কার করছিলেন যে, নবী (স.) ইন্তিকাল করেননি বরং তিনি হযরত ঈসা (আ.) এর মত তিনি আল্লাহর নিকট চলে গেছেন। এমন সময় সাহাবীদের মধ্য হতে একজন এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন :

((«و ما محمد الا رسول قد خلت من قبله الارسل أفإن مات أو قتل …»)) [১৯]

আলী (আ.), হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর পবিত্র দেহ মোবারকের গোসল দিয়েছিলেন। কেননা মহানবী (স.) নিজেই ওসিয়ত করেছিলেন যে, তাঁর সবচেয়ে নিকটতম ব্যক্তি যেন তাকে গোসল দেয়।[২০]

আর ঐ ব্যক্তি আলী (আ.) ব্যতীত আর কেউ ছিল না। অতঃপর তার মুখমণ্ডল উন্মুক্ত করলেন এ সময় তাঁর দু’চোখ বেয়ে অঝোরে অশ্রু ঝরছিল। তিনি (আ.) বললেন : আমার পিতা ও মাতা আপনার উপর উত্সর্গ হোক হে আল্লাহর রাসূল (স.)। আপনার ওফাতের মাধ্যমে নবুয়্যত, ঐশী ওহী ও আসমানী সংবাদের সিলসিলা কর্তিত হল… যদি আপনি আমাদেরকে ধৈর্যধারণের নির্দেশ না দিতেন তবে এত ক্রন্দন করতাম যে, আমাদের অশ্রুর উত্স শুকিয়ে যেত।[২১]

অতঃপর তাঁরই শয়নকক্ষে ‘আবু উবাইদাহ জাররাহ’ ও ‘যায়েদ বিন সাহল’ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত কবরে তাঁর পবিত্র দেহ মোবারক দাফন করা হয়।[২২]

তথ্যসূত্র:

১- শেখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, বৈরুত, ১৩৯৯ হিজরী, পৃ. ৯৭। মহানবী (স.) এর ওফাত দিবসের বিষয়ে বিভিন্ন সম্ভাবনা বর্ণিত হয়েছে। আর এ তারিখটি শিয়া উলামাদের বিখ্যাত দৃষ্টিভঙ্গীর ভিত্তিতে। ইবেন হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাভিয়্যাহ, মুস্তাফা আল-সাক্কা ও ইব্রাহিম আল-আবয়ারী ও আব্দুল হাফীজ শালবী, বৈরুত, দারুল মা’রেফাহ, খণ্ড ২, পৃ. ৬৫৮; ইবনে সায়াদ তাবাকাতুল কোবরা, মুহাম্মাদ বিন সামেল আল-সালমি, তায়েফ, মাকতাবাতুস সাদীক, ১৪১৪ হিজরী, প্রথম সংস্করণ, খণ্ড ২ পৃ. ৫২১।

২- ইবনে ওয়াদ্বেহ, তারিখে ইয়াকুবী, নাজাফ, আল-মাকতাবাতুল হায়দারিয়্যাহ, ১৩৮৪ হিজরী, খণ্ড ২, পৃ. ১৭৮।

৩-শেইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৭ এবং ইবনে সায়াদ, তাবাকাত, খণ্ড ২, পৃ. ২১৪।

৪- প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, পৃ. ২১৪

৫- প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, পৃ. ২১৪

৬- ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাভিয়্যাহ, প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, পৃ. ৬৫৪ এবং ইবনে সায়াদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, পৃ. ২১৬।

৭- শেইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৭।

৮- ইবনে সায়াদ, আত-তাবাকাতুল কোবরা, প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, পৃ. ৩৩৪ এবং সহীহ মুসলিম, খণ্ড ২, পৃ. ৩২৫।

৯-ইবনে সায়াদ, আত-তাবাকাতুল কোবরা, প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, পৃ. ১৯০।

১০- শাহরিস্তানী, আব্দুল কারিম, মিলাল ওয়া নিহাল, অনুবাদ : সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজা জালালী নায়ীনী, তৃতীয় সংস্করণ, ১৩৬০ (সৌরবর্ষ) খণ্ড ১, পৃ. ২৩ এবং তাবারী, মুহাম্মাদ জারীর, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক (অনুবাদ : আবুল কাসেম পায়ান্দেহ), তেহরান, আসাতীর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশকাল ১৩৫২ (সৌরবর্ষ), খণ্ড ৩, পৃ. ৪২৯।

১১-  আহমাদ ইবনে হাম্বাল, মুসনাদে আহমাদ, দারু সার, বৈরুত, খণ্ড ১, পৃ. ৩৫৫।

১২-  ইবনে সায়াদ, আত-তাবাকাতুল কোবরা, প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, পৃ. ২৪৪।

১৩- তাবারী, মুহাম্মাদ বিন জারীর, প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, পৃ. ৪৩৯।

১৪-  শেইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৯।

১৫-  আল-তাযকিরাতুল হামদানিয়াহ (এহসান আব্বাসের সম্পাদনায় প্রকাশিত), খণ্ড ৯, পৃ ১৫৩ ও ১৫৪।

১৬- ইবনে সায়াদ, আত-তাবাকাতুল কোবরা, প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, পৃ. ২৩৮।

১৭-  প্রাগুক্ত, পৃ. ২৪৭।

১৮-  ইবনে সায়াদ, আত-তাবাকাতুল কোবরা, প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, পৃ. ২৩৬ এবং নাহজুল বালাগাহ (সুবহি সালেহ), খোতবা নং ১৯৭।

১৯-  ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাভিয়াহ, প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, পৃ. ৬৫৬।

২০- ইবনে সায়াদ, আত-তাবাকাতুল কোবরা, প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, পৃ. ৫৭।

২১-  নাহজুল বালাগাহ (সুবহি সালেহ), খোতবা নং ২৩, পৃ. ৩৫৫ভ

২২- ইবনে সায়াদ, আত-তাবাকাতুল কোবরা, প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, পৃ. ২৮১।

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পবিত্র রমজান শুরু ৬ মে

ধর্ম ডেস্ক: আগামী ৫ মে শাবান মাসের শেষ দিন। সে হিসেবে ৬ মে থেকে শুরু ...