মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
‘‘সবুজবিডি২৪ ডট কম’’ এ আপনাকে স্বাগতম। সাইটের উন্নয়ন কাজ চলছে... এ সময় আমাদের সাইট ভিজিট করতে একটু সমস্যা হতে পারে সেজন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আশা করছি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত দশমিনার মামুনের পরিবারে কান্না এখনো থামেনি

সাফায়েত, (দশমিনা) পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

কান্না আর হতাশা নিয়ে পুত্রহত্যার বিচার পাওয়ার আশায় দিন কাটাচ্ছে ভয়াল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত মামুনের পরিবার। একমাত্র পুত্রসন্তান হারানোর দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন মামুনের বাবা মোতালেব মৃধা ও মা মোর্শেদা বেগম। সেই ভয়াবহ দিনটির কথা স্মরণ করে আজও তারা বুকফাটা আর্তনাদ করেন। ছেলের কথা বলতে গিয়ে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন মা মোর্শেদা বেগম। বাবা মোতালেব মৃধা শোকে নির্বাক। একমাত্র ভাইকে হারিয়ে শোকে পাথর মামুনের বোনেরা। এখন তাদের একটাই চাওয়াথ কবে পাবে বিচার।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় বঙ্গবন্ধুকন্যা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে দেখতে ও তার ভাষণ শুনতে গিয়ে ঘাতকের গ্রেনেড হামলায় নিহত হন ঢাকার কবি নজরুল ইসলাম কলেজের মেধাবী ছাত্র মামুন মৃধা।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার পশ্চিম আলীপুর গ্রামের দিনমজুর মোতালেব মৃধা ও গৃহিণী মোর্শেদা বেগমের এক ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে মামুন ছিল সবার বড়। ছেলেকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ছিল বাবা-মায়ের। অনেক কষ্টে ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছিলেন দরিদ্র মোতালেব মৃধা। মামুন ২০০৩ সালে দশমিনার পশ্চিম আলীপুর ব্রজবালা রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পড়ে ভর্তি হন ঢাকার কবি নজরুল ইসলাম কলেজে। ফকিরাপুল এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন মামুন। ওই দিন শেখ হাসিনাকে দেখতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যান মামুন। সেখানে ঘাতকদের গ্রেনেড হামদেশের খবরলায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বর্তমানে মামুনের বাবা মোতালেব মৃধার শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বেঁধেছে। কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না তিনি। মা মোর্শেদা বেগমেরও একই অবস্থা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মামুনের পরিবারকে ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর ১০ লাখ টাকার অর্থ সাহায্য দেন। পটুয়াখালী সোনালী ব্যাংক শাখায় জমা রাখা ওই টাকার মুনাফা দিয়ে তাদের সংসার চলে। প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় মামুনের মেজো বোনের স্বামীর সমবায় ব্যাংক মতিঝিল শাখায় চাকরি হয়েছে। বিভিন্নভাবে মামুনের পরিবারকে সহায়তা করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন। এখন মামুনের পরিবারে অভাব না থাকলেও সন্তান হত্যার বিচারের আশায় বুক বেঁধে আছেন তারা। বাবা-মায়ের একটাই প্রত্যাশা, মৃত্যুর আগে অন্তত ছেলের ঘাতকদেরফাঁসি দেখে যেতে চান।
এদিকে আজ গ্রেনেড হামলার ১৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগ, মামুন মৃধা স্মৃতি সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করবে।

 

সব সময় আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন- সবুজ বিডি ২৪

সংবাদটি শেয়ার করুন:

© All rights reserved © 2018-2019  Sabuzbd24.Com
Design & Developed BY Sabuzbd24.Com